চট্টগ্রামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসা খরচ মওকুফ করে শিশুটিকে মায়ের কোলে তুলে দিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। আজ সকালে নগরের জিইসি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরণ
হামে আক্রান্ত পাঁচ মাসের শিশু জয়া দাসের চিকিৎসার বিল পরিশোধ করতে না পারায় তাঁকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যেতে পারছিলেন না বাবা সুমন জলদাস। এ নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণে সংবাদ প্রকাশের পর এগিয়ে আসেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। আজ শুক্রবার হাসপাতালের সব বকেয়া বিল মওকুফ করে শিশুটিকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পরিবারের অবস্থা
চট্টগ্রামের কাঠগড় এলাকার বাসিন্দা সুমন জলদাস ২০ দিন ধরে অসুস্থ কন্যা জয়াকে নিয়ে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটেছেন। অবস্থার অবনতি হলে গত ৩০ এপ্রিল নগরের জিইসি এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয় তাকে। দীর্ঘ চিকিৎসার পর সুস্থ হলেও বকেয়া বিল পরিশোধ করতে না পারায় মেয়েকে বাড়ি নিতে পারছিলেন না সুমন।
প্রথম আলোর সংবাদ
এ ঘটনায় গতকাল বিকেলে প্রথম আলোর অনলাইনে ‘আমরা গরিব মানুষ, ৮০ হাজার দিয়েছি, তবু হাসপাতাল থেকে মেয়েকে ছাড়ছে না’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদের পর রাতেই সুমন জলদাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। আজ সকাল ১১টার দিকে হাসপাতালে গিয়ে তিনি সব বকেয়া বিল মওকুফের ব্যবস্থা করেন এবং শিশুটিকে পরিবারের কাছে তুলে দেন।
জেলা প্রশাসকের বক্তব্য
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘সংবাদটি দেখার পর রাতেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করি। আমি প্রিন্ট মিডিয়াকে ধন্যবাদ জানাই, বিশেষ করে প্রথম আলোকে, যারা সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রতিবেদন করেছে। এই প্রতিবেদন না হলে অনেক কিছু অজ্ঞাত থেকে যেত। সবচেয়ে বড় কথা, জয়া দাসকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং সে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে।’
এ সময় জেলা সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিনসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও কর্মকর্তারাও সেখানে ছিলেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জয়া দাসের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়েছে।
পরিবারের সঞ্চয় শেষ
গতকাল সুমন জলদাস প্রথম আলোকে জানিয়েছিলেন, মেয়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে নিজের সব সঞ্চয় শেষ করেছেন। স্ত্রীর গয়নাও বিক্রি করেছেন। পাশাপাশি স্বজনদের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন। সব মিলিয়ে ৮০ হাজার টাকা জোগাড় করলেও হাসপাতালের মোট বিল হয় ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা। বাকি টাকা পরিশোধ করতে না পারায় মেয়েকে হাসপাতাল থেকে নিতে পারছিলেন না।
মেয়েকে ফিরে পেয়ে বাবার প্রতিক্রিয়া
আজ দুপুরে মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পর সুমন জলদাস প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি আমার মেয়েকে ফিরে পেয়েছি, এর চেয়ে বড় কিছু আর হতে পারে না। জেলা প্রশাসক রাত থেকেই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। আমরা তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমার মেয়ে এখন সুস্থ। হাসপাতালকেও ধন্যবাদ। মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ফিরেছি। দুজনই সুস্থ আছে।’



