যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ‘টাইম’ সাময়িকীর ২০২৬ সালের মানবসেবায় সেরা ১০০ ব্যক্তিত্বের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্। ২০২৫ সালে শুরু হওয়া এই তালিকায় তিনিই প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এই স্বীকৃতি পেলেন। এটি বৈশ্বিক উন্নয়ন ভাবনায় বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার এক অন্যন্য স্বীকৃতি।
টাইম১০০ ফিলানথ্রপি তালিকা
প্রতি বছর টাইম ম্যাগাজিন ‘টাইম১০০ ফিলানথ্রপি’ তালিকার মাধ্যমে বিশ্বের ১০০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে সম্মানিত করেন, যাঁরা জনকল্যাণ ও সমাজ পরিবর্তনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছেন। ২০২৬ সালের এই সংস্করণে বৈশ্বিক উন্নয়ন, মানবিক সহায়তা এবং কাঠামোগত পরিবর্তনে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা রাখা নেতা, জনহিতৈষী ও উদ্ভাবকদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
নেতৃত্ব ক্যাটাগরিতে স্বীকৃতি
ব্র্যাকের আসিফ সালেহ্ ‘নেতৃত্ব’ ক্যাটাগরিতে এই স্বীকৃতি পেয়েছেন। ব্র্যাকের স্থানীয় নেতৃত্বভিত্তিক উন্নয়ন মডেলকে এগিয়ে নেওয়া এবং আন্তর্জাতিক সহায়তায় আরও ন্যায্য ও টেকসই পদ্ধতির পক্ষে কাজ করার জন্য তাকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। টাইম নিজেদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বৈশ্বিক সহায়তা কমে যাওয়া এবং উন্নয়ন অর্থায়নের ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন নানা আলোচনা চলছে, তখন ব্র্যাকের বহুমুখী অর্থায়ন কৌশল ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীভিত্তিক কাজের ধারা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব
এই স্বীকৃতি বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ১৯৭২ সালে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্য নিয়ে ব্র্যাক প্রতিষ্ঠিত হয়। পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ে ব্র্যাক বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে একটি কার্যকর উন্নয়ন মডেল গড়ে তুলেছে, যা পরবর্তী সময়ে এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশেও অনুসরণ করা হয়েছে। আজ বিশ্বজুড়ে ব্র্যাকের যে বিস্তৃত কর্মকাণ্ড, তার অধিকাংশই এসেছে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা থেকে।
বৈশ্বিক সহায়তার মডেল
টাইম বলছে, গত বছর বৈদেশিক সহায়তায় ব্যাপক কাটছাঁটের পর অনেকে বৈশ্বিক সহায়তার একটি উন্নত মডেলের দাবি তুলেছেন। ব্র্যাক এবং এর নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্’র কাছে হয়তো এর সমাধান আছে। অনুদান, বিনিয়োগ, সামাজিক অংশগ্রহণ, মাইক্রোফাইন্যান্স এবং সামাজিক উদ্যোগের একটি সমন্বিত মডেলের মাধ্যমে ব্র্যাক বৈশ্বিক অর্থায়নের সংকট মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে।
আসিফ সালেহ্-এর প্রতিক্রিয়া
স্বীকৃতি প্রসঙ্গে আসিফ সালেহ্ বলেন, “এই অর্জন এশিয়া ও আফ্রিকার সেসব মানুষের, যারা গত অর্ধশতাব্দী ধরে আমাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন। একইসঙ্গে এটি আমাদের কর্মীদেরও অর্জন, যারা প্রতিদিন নিজ নিজ কমিউনিটির মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।”



