ঘুম কমলেই বাড়ছে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি, বেশি ঝুঁকিতে যারা
ঘুম কমলেই বাড়ছে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি, বেশি ঝুঁকিতে যারা

সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর তীব্র ক্লান্তি এবং অতিরিক্ত ক্ষুধা অনুভব করছেন? চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এমনটা হলে অবহেলা না করে দ্রুত আপনার ঘুম কেমন হচ্ছে সেদিকে নজর দেওয়া উচিত। সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যাপ্ত ও গভীর ঘুমের অভাব সরাসরি শরীরে ‘ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স’ বা ইনসুলিন প্রতিরোধক ক্ষমতা তৈরি করে, যা পরবর্তীতে ডায়াবেটিসের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও ঘুমের সম্পর্ক

প্রখ্যাত চিকিৎসা সাময়িকী এন্ডোক্রাইন-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ঘুমের মানের ওপর আমাদের শরীরের ইনসুলিন কার্যকারিতা সরাসরি নির্ভরশীল। ঘুমের চক্র ব্যাহত হলে শরীরের বিপাকক্রিয়া এবং হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা ওঠানামা করে এবং সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর প্রচণ্ড ক্ষুধা ও ক্লান্তি অনুভূত হয়।

অন্য এক চিকিৎসা সাময়িকী কিউরিয়াস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানা চার দিন গভীর ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরে ইনসুলিন সংবেদনশীলতা মারাত্মকভাবে কমে যায়। রাতের বেলা রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল না থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই চক্র ক্রমাগত চলতে থাকলে শরীর প্রথমে প্রি-ডায়াবেটিক স্তরে পৌঁছায় এবং একপর্যায়ে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে রূপ নেয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পালমনোলজিস্ট চিকিৎসকরা জানান, ‘মাত্র কয়েক দিনের অনিদ্রা শরীরের ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিতে পারে এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনগুলোকে বিপর্যস্ত করে বিপাকজনিত রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।’

জার্নাল অব এডুকেশন, হেলথ অ্যান্ড স্পোর্টস-এর একটি গবেষণায় দেখা গেছে, মানসম্মত ঘুম গ্লুকোজ বিপাক প্রক্রিয়া সচল রাখে। কিন্তু গভীর ঘুমের অভাব হলে ইনসুলিন ও গ্লুকাগন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যার ফলে খালি পেটে রক্তে শর্করার পরিমাণ হঠাৎ বেড়ে যায়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পাশাপাশি, ঘুমের ঘাটতি ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন ‘ঘেরলিন’ ও ‘লেপটিন’-এর কার্যকারিতা নষ্ট করে। ঘেরলিন হরমোন বেড়ে যাওয়ার কারণে শরীর তখন চিনি, অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি তীব্র আকর্ষণ বা ‘ক্রেভিং’ তৈরি করে।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে কারা?

গবেষকদের মতে, অনিয়মিত জীবনযাপনের কারণে যারা প্রতিনিয়ত ঘুমের সমস্যায় ভোগেন তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। বিশেষ করে:

  • শিফট ডিউটি বা রাতে কাজ করা কর্মী যাদের ঘুমানোর নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি নেই
  • অতিরিক্ত মানসিক চাপে থাকা ব্যক্তি
  • যাদের পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস রয়েছে

ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার উপায়

চিকিৎসকদের মতে, জীবনযাত্রায় কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এনে ঘুমের এই ক্ষতি এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব:

  1. নির্দিষ্ট সময়: প্রতিদিন রাতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম নিশ্চিত করা।
  2. রুটিন মেনে চলা: প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো এবং সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করা।
  3. দেরিতে খাবার না খাওয়া: রাতে ঘুমানোর ঠিক আগমুহূর্তে ভারী খাবার বা স্ন্যাক্স খাওয়া থেকে বিরত থাকা।
  4. স্ক্রিন টাইম কমানো: ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল, ল্যাপটপ বা টিভির স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা।
  5. মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ: নিয়মিত মেডিটেশন বা ব্যায়ামের মাধ্যমে মানসিক চাপ মুক্ত থাকা।

সকালে ঘুম থেকে উঠে অতিরিক্ত ক্লান্তি বা ক্ষুধার মতো প্রাথমিক লক্ষণগুলোকে অবহেলা করা উচিত নয়। বিপাকজনিত দীর্ঘমেয়াদী রোগ বা ডায়াবেটিস থেকে বাঁচতে দৈনন্দিন জীবনে ঘুমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।

সূত্র: এনডিটিভি