চা শুধু পানীয় নয়, বরং দৈনন্দিন জীবন ও সামাজিক রীতির অংশ হয়ে উঠেছে। সকাল বা বিকালের চায়ের সঙ্গে বিস্কুট বা টোস্ট খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। অনেকের ক্ষেত্রে তো চায়ের সঙ্গে এসব না থাকলে চা খাওয়াই যেন অসম্পূর্ণ। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ছোট্ট অভ্যাসই নীরবে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে ডায়াবেটিসসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
ভারতের মুম্বাইয়ের ওকহার্ট হাসপাতালের কনসালট্যান্ট এন্ডোক্রিনোলজিস্ট ও ডায়াবেটোলজিস্ট ডা. প্রণব ঘোডির মতে, বিস্কুট ও টোস্টের মধ্যে ক্ষতির পার্থক্য খুব বেশি নয়। তিনি সম্প্রতি দেশটির সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, “দুটোর মধ্যে সাধারণ টোস্ট কিছুটা কম ক্ষতিকর, কারণ এটি তুলনামূলক শুকনো এবং এতে ফ্যাট কিছুটা কম থাকতে পারে। তবে পার্থক্য খুব সামান্য। দুটিই মূলত পরিশোধিত আটা দিয়ে তৈরি এবং দ্রুত রক্তে শর্করা বাড়াতে পারে।”
পরিশোধিত আটার প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল সমস্যা হলো ময়দা বা পরিশোধিত আটা, যা শরীরে দ্রুত ভেঙে গিয়ে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। এর সঙ্গে অতিরিক্ত চিনি যোগ হলে এই প্রভাব আরও তীব্র হয়। ডা. ঘোডি বলেন, “এর ফলে রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে আবার দ্রুত কমে যায়, ফলে ক্ষুধা ফিরে আসে এবং বারবার খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়।”
ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি
তিনি আরও জানান, এসব খাবারে থাকা অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট দীর্ঘমেয়াদে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়াতে পারে, যা টাইপ–২ ডায়াবেটিসের অন্যতম ঝুঁকি। এমনকি ‘ডাইজেস্টিভ’ বা ‘লাইট’ হিসেবে বাজারজাত করা বিস্কুটেও একই ধরনের ঝুঁকি থাকতে পারে।
স্বাস্থ্যকর বিকল্পের পরামর্শ
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বিস্কুট বা টোস্টের পরিবর্তে ভাজা ছোলা, চিনাবাদাম, মাখানা, মাল্টিগ্রেইন টোস্ট বা সেদ্ধ ডিমের মতো স্বাস্থ্যকর বিকল্প বেছে নেওয়া ভালো। এসব খাবার ধীরে শর্করা বাড়ায় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। তারা আরও বলছেন, শুধু খাবার নয়, চায়ের মধ্যে অতিরিক্ত চিনি কমানোও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।



