স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেছেন, দেশব্যাপী চলমান হামের প্রাদুর্ভাব ও শিশু মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে। শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডা. মিল্টন হলে অনুষ্ঠিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্র প্রতিটি মৃত্যুর জন্য দায়ী
সচিব বলেন, 'প্রতিটি মৃত্যুর জন্য রাষ্ট্র দায়ী। প্রতিটি ঘটনা সঠিকভাবে তদন্ত করতে হবে।' তিনি জানান, হাম ও হামের মতো উপসর্গে মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত চলছে এবং প্রতিবেদন চূড়ান্ত হলে তা প্রকাশ করা হবে।
'হামের প্রাদুর্ভাব ও উত্তরণের পথ' শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম।
আরও নয় শিশুর মৃত্যু
অন্যদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও হামের মতো উপসর্গে নয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে তিন শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে এবং বাকি ছয়জনের হামের মতো উপসর্গ দেখা গেছে।
এ নিয়ে হাম ও হামের মতো উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা ৩৫২-এ পৌঁছেছে। একই সময়ে ৯৪৬ শিশুর হামের মতো উপসর্গ দেখা দিয়েছে এবং ৪৮৯ শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে। মোট আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ১,৪৩৫-এ দাঁড়িয়েছে।
সর্বশেষ মৃত্যুর মধ্যে হাম শনাক্ত হওয়া তিন শিশু বরিশালে মারা গেছে। হামের মতো উপসর্গে মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে তিনজন ঢাকায়, দুইজন খুলনায় এবং একজন সিলেটে মারা গেছে।
১৫ মার্চ থেকে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের মতো উপসর্গে ২৯১ শিশু এবং হাম শনাক্ত হওয়া ৬১ শিশু মারা গেছে। একই সময়ে ৪৭,৬৫৬ শিশুর হামের মতো উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এদের মধ্যে ৩৩,৬৩১ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং ২৯,৭৪৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, একই সময়ে ৬,৯৭৯ শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে।



