কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করেছেন। এ সময় বহির্বিভাগে কোনো কারণ ছাড়াই অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগের দুই কনসালটেন্টকে শোকজের নির্দেশ দেওয়া হয়। রোববার (২৬ এপ্রিল) ওই দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে শোকজের চিঠি ইস্যু করা হয়েছে।
অভিযানের বিবরণ
এর আগে শনিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত অভিযান পরিচালিত হয়। জানা যায়, ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা দূরীকরণ এবং গত শুক্রবার রাতে স্থানীয় রাজনীতিবিদদের সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সৃষ্ট মনোমালিন্য নিরসনের লক্ষ্যে এই আকস্মিক পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, হাসপাতালের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে এবং দ্রুত তা নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অনুপস্থিত চিকিৎসক
অভিযানকালে বহির্বিভাগে তিনজন কনসালটেন্টের মধ্যে একজন উপস্থিত থাকলেও বাকি দুজন কোনো কারণ ছাড়াই অনুপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা নিয়মিত দায়িত্বে অনিয়ম করেন এবং হাজিরা খাতায় গড়মিল রয়েছে।
রোগীদের অভিযোগ
ভুক্তভোগী নিলুফা ইয়াসমিন অভিযোগ করেন, তার বিষ অপসারণে ২ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। মোহন ইসলাম জানান, তার এবং তার মায়ের ইসিজি করতে বাইরে থেকে মেশিন এনে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে। শারমিন আক্তার বলেন, “মেডিসিন চিকিৎসককে দেখাতে এসে তাকে পাইনি। আরও কয়েকজন রোগীও একই সমস্যায় পড়েছেন। কয়েকদিন ধরেই ঘুরছি, কিন্তু সেবা পাচ্ছি না।”
কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা
এ সময় অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. জাহিদ রায়হান জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস এম কামাল হোসেন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমানকে দ্রুত সমস্যাগুলো সমাধানের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, “এ ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” পাশাপাশি প্রতিটি কনসালটেন্টকে সপ্তাহে ছয় দিন দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন এবং সরকারি নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান।
শোকজ ইস্যু
ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, অতিরিক্ত মহাপরিচালকের নির্দেশনা অনুযায়ী অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে শোকজের চিঠি রোববার সকালে ইস্যু করা হয়েছে।



