অস্ট্রেলিয়ায় ভারতীয়কে যৌন নিপীড়নের দায়ে ১৩ বছরের কারাদণ্ড
অস্ট্রেলিয়ায় ভারতীয়কে যৌন নিপীড়নে ১৩ বছর কারাদণ্ড

অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড শহরে একটি ম্যাসাজ পার্লারে কাজ করার আড়ালে ৬১ জন নারীকে যৌন নিপীড়ন এবং গোপনে ভিডিও ধারণের অপরাধে সুমিত সতীশ রাস্তোগি (৩৯) নামে এক ভারতীয় নাগরিককে ১৩ বছর ১০ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মোট ৯৭টি অপরাধের অভিযোগ স্বীকার করার পর এই রায় ঘোষণা করা হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ খবর জানিয়েছে।

অপরাধের বিবরণ

অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ জানায়, সুমিত ম্যাসাজ পার্লারে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও সেখানে নিযুক্ত ছিলেন। ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে ২০২২ সালের জুলাই পর্যন্ত মাত্র নয় মাসের মধ্যে তিনি এসব অপরাধ সংঘটন করেন। ২০২২ সালের জুলাইয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

বিচারকের পর্যবেক্ষণ

মামলার রায়ে বিচারক কারমেন মাতেও সুমিতের করা ৯৭টি অপরাধের বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, “আপনি বিভিন্নভাবে ৬১ জন নারীকে লাঞ্ছিত করেছেন, যারা আপনাকে বিশ্বাস করেছিলেন এবং যাদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা পাওয়ার অধিকার ছিল। আপনি তাদের বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে যৌন হেনস্তা করেছেন এবং আপত্তিকর ছবি তুলেছেন।”

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করেন যে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সুমিতের অপরাধের মাত্রা বাড়তে থাকে। বিচারক বলেন, “আপনার আচরণ ছিল নিয়মিত এবং কখনও কখনও চরম পর্যায়ের। বিশেষ করে ২০২২ সালের জুন ও জুলাই মাসের দিকে আপনার অপরাধমূলক আচরণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। ধরা পড়ার আগ পর্যন্ত আপনি নিজেকে থামানোর কোনও লক্ষণ দেখাননি।”

মানসিক অবস্থা

সুমিতের মানসিক অবস্থা পর্যালোচনায় একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ জানান যে, তিনি ভয়ারিস্টিক ডিসঅর্ডার (গোপনে অন্যের নগ্নতা দেখে যৌন উত্তেজনা বোধ করা) নামক সমস্যায় ভুগছিলেন। তবে বিচারক স্পষ্ট করে বলেন, এই সমস্যা থাকলেও তিনি তার কাজের পরিণাম সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন ছিলেন এবং এটি তাকে অপরাধের দায় থেকে মুক্তি দেয় না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শাস্তি ও ডিপোর্টেশন

সাজাপ্রাপ্ত সুমিত সতীশ রাস্তোগিকে তার কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরপরই অস্ট্রেলিয়া থেকে নিজ দেশ ভারতে ফেরত পাঠানো (ডিপোর্ট) হবে বলে আদালতের রায়ে জানানো হয়েছে।