আলীকদমে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, ৩৩ জন চিকিৎসাধীন
আলীকদমে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার কুরুকপাতা ইউনিয়নে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার উপজেলার দুর্গম সিন্ধুমুখপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে ইউনিয়নটিতে হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশুর মৃত্যু হলো।

নিহত শিশুর পরিচয়

নিহত শিশুর নাম তাংতুই ম্রো (৮)। সে ইউনিয়নের প্রেন্নয় হোস্টেলের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। হোস্টেলটির পরিচালক উথোয়াইংগ্য মারমা বলেন, তাংতুই ম্রো লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ছিল। গত বৃহস্পতিবার তাকে লামা স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এরপর বাড়ি ফেরার পথে আবার জ্বর দেখা দিলে সিন্ধুমুখপাড়ায় তার মৃত্যু হয়।

চিকিৎসকের বক্তব্য

লামা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. সোলেমান আহমদ বলেন, ‘শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল। তার মৃত্যুর খবর শুনেছি।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে

আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন কম থাকার পর আবার হামের উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। গতকাল শুক্রবার এক দিনে ১১ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়। এর আগে হাসপাতালে ১০ জন ভর্তি ছিল। আজ শনিবার নতুন করে আরও ১২ জন ভর্তি হয়েছে। সব মিলিয়ে আলীকদম হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে বর্তমানে ৩৩ জন শিশু চিকিৎসাধীন।

দুর্গম এলাকা থেকে রোগী আসছে

আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স শামীমা আক্তার বলেন, নতুন ভর্তি হওয়া অধিকাংশ রোগী মিয়ানমার সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকা থেকে এসেছে। এসব এলাকা থেকে রোগীদের ছয় থেকে সাত ঘণ্টা হেঁটে সড়কে এনে, সেখান থেকে যানবাহনে করে হাসপাতালে আনতে হয়। এ কাজে ‘ম্রো যুব স্বেচ্ছাসেবী গ্রুপ’ নামের একটি সংগঠনের সদস্যরা সহায়তা করছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চিকিৎসা পরিস্থিতি

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. হানিফ বলেন, ‘রোগীর সংখ্যা বাড়লেও এখন পর্যন্ত কেউ গুরুতর অবস্থায় নেই। এ পর্যন্ত হামের উপসর্গে আক্রান্ত ১০৩ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৭৭ জন হাসপাতালের ভেতরে ও ২৬ জন বহির্বিভাগে সেবা নিয়েছে।’

টিকাদান কার্যক্রম জোরদার

কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো বলেন, দুর্গম এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর সহায়তায় স্বাস্থ্য বিভাগের দল বিভিন্ন পাড়ায় গিয়ে কাজ করছে। আগে অনেক রোগী চিকিৎসা না পেয়ে বাড়িতে পড়ে থাকত। এখন অন্তত হাসপাতালে এসে চিকিৎসা পাচ্ছে।

আশার কথা

আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) মো. হানিফ বলেন, দুর্গম এলাকা থেকে রোগী হাসপাতালে আসায় সংখ্যা বাড়ছে বলে মনে হচ্ছে। তবে এতে আতঙ্কের কিছু নেই। দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতি কয়েক দিনের মধ্যে নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।