জাতীয় চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ভবনটি উপযুক্ত নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি বৃহস্পতিবার (৪ জুন) তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। বিকালে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে তদন্ত প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
ভবনের অবস্থা ও তদন্তের ফলাফল
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তদন্ত কমিটি দেখেছে- আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ভবনটি হাসপাতাল পরিচালনার জন্য উপযোগী নয়। তদন্ত কমিটি পোস্ট অপারেটিভ কক্ষ নম্বর-২ পরিদর্শন করেছে। তাদের মনে হয়েছে- কক্ষটিতে দীর্ঘ সময় এসি বন্ধ থাকায় ও স্বাভাবিক ভেন্টিলেশন কার্যক্রম না থাকায় প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের মাত্রার ঘাটতি হয়েছে। পাশাপাশি কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ছিল।
চিকিৎসক ও নার্সদের অবহেলা
হাসপাতালের দায়িত্বরত সেবিকাদের দায়িত্বে চরম অবহেলা ও অসহযোগিতা ছিল উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বিদ্যমান প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা হাসপাতাল পরিচালনার প্রাথমিক শর্তগুলো পালনে সক্ষম ছিলেন না। হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণেই রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক না থাকা, নার্স ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা
মন্ত্রী বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে তারা করণীয় ঠিক করতে বসবেন। বিদ্যমান আইনে যে শাস্তি রয়েছে, হাসপাতালের বিরুদ্ধে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রোববারের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।
তিনি বলেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতক মারা যাওয়ার ঘটনাকে আমরা খুবই সিরিয়াসলি নিয়েছি। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি, তাদের তিন দিন সময় দেওয়া হয়েছিল। আজ বেলা তিনটায় সে প্রতিবেদন হাতে পেয়েছি।
ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত লোকজন
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কক্ষটি (পোস্ট অপারেটিভ কক্ষ) ৯০০ বর্গফুটের। যেখানে ১১ জন রোগী, নবজাতক, রোগীর লোকসহ প্রায় ৫০ জনের উপস্থিতি ছিল, যা ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি। হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রমাণ মিলেছে যে তারা হাসপাতাল পরিচালনার প্রাথমিক শর্তগুলো পালনে সক্ষম ছিলেন না। পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড নম্বর দুইয়ে রোগীদের দেখাশোনার কোনো চিকিৎসক ছিলেন না। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেবিকাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ছিল না। কক্ষটিতে আলো-বাতাস চলাচল বা ভেন্টিলেশনের জন্য কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। কক্ষটিতে অতিরিক্ত লোকজনের উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়নি। এ ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুসারে ব্যবস্থা হবে বলেও জানিয়েছেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা যে ধরনের কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যাচ্ছি, তাতে আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ভবিষ্যতে আর কেউ কোনো শিশু বা সাধারণ মানুষকে বদ্ধ ঘরে এভাবে আটকে রাখার মতো দুঃসাহস দেখাবে না। মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার দিন শেষ।
তিনি বলেন, অনেকে অনেক কথা বলতে পারেন, তবে লোকদেখানো কোনো কাজ আমি করি না। আইনে যতটুকু কঠোর হওয়ার সুযোগ আছে, আমি তার সর্বোচ্চ প্রয়োগ করব। আমরা হাসপাতালের সামগ্রিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এ লক্ষ্যে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।



