রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে ছয় নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত শিশুদের মধ্যে একজনের স্বজন হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ এনে এই মামলাটি করেন।
ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর
এদিকে, কোনো ধরনের ময়নাতদন্ত ছাড়াই মারা যাওয়া ছয় নবজাতকের মরদেহ তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছে পুলিশ। স্বজনদের লিখিত অনুরোধ এবং তাদের আবেগীয় আকুতি বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পরিবারের সদস্যরা শিশুদের ময়নাতদন্ত করতে পুরোপুরি অনীহা প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে তাঁদের কাছ থেকে লিখিত আবেদন পাওয়ার পর মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করার অনুমতি দেওয়া হয়।
ময়নাতদন্ত ছাড়া এই অবহেলাজনিত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কীভাবে উদ্ঘাটিত হবে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ডিসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে পরিবারের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও মানসিক আবেগের বিষয়টি জড়িত রয়েছে। আইনি তদন্তের স্বার্থে ময়নাতদন্ত করা গেলে অবশ্যই ভালো হতো, তবে পরিবারের সুনির্দিষ্ট লিখিত আবেদনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই তা করা থেকে বিরত থাকা হয়েছে।
বৈজ্ঞানিক উপায়ে তদন্ত
তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য অন্যান্য বৈজ্ঞানিক ও ফরেনসিক উপায় অবলম্বন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিট এবং ডিএমপির বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত ও নমুনা সংগ্রহ করেছে। এই সংগৃহীত নমুনাগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমেই মৃত্যুর আসল কারণ উদঘাটন করার চেষ্টা চালানো হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে ডিসি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এখন পর্যন্ত হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে থানায় আনা হয়েছিল। তবে মামলা দায়েরের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ সম্পন্ন হওয়ার পর এই বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ ও গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হবে।
ঘটনার বিবরণ
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত অথবা বুধবার ভোরে কোনো এক সময়ে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে এই ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই নিহত শিশুদের স্বজনরা হাসপাতালের চরম অব্যবস্থাপনা এবং ওয়ার্ডের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকাকেই এই মর্মান্তিক পরিণতির জন্য দায়ী করে আসছেন।
হৃদয়বিদারক এই ঘটনার পর বুধবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, একই ওয়ার্ডের আরও পাঁচ নবজাতক বর্তমানে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে চিকিৎসাধীন সেই শিশুদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা কেমন বা তারা আশঙ্কামুক্ত কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি তিনি।



