রেডমিটে একটু বেশি সম্পৃক্ত চর্বি থাকে, যা রক্তের খারাপ চর্বির পরিমাণ বাড়ায় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। সাধারণত স্তন্যপায়ী প্রাণীর মাংস রেডমিট হিসেবে বিবেচিত, যেমন গরু, খাসি, মহিষ, ভেড়া ইত্যাদি। এসব মাংসে মায়োগ্লোবিন নামক প্রোটিন বেশি থাকায় মাংস লাল দেখায়। রেডমিটের সঙ্গে প্রোস্টেট ক্যানসার ও হৃদরোগের সরাসরি সম্পর্ক থাকলেও পরিমিত পরিমাণে এটি ততটা ক্ষতিকর নয়, বরং পুষ্টির উৎস।
রেডমিটের পুষ্টিগুণ
মাংস প্রোটিনের সবচেয়ে ভালো উৎস। রেডমিটে উচ্চমানের প্রোটিন, আয়রন, ক্রিয়েটিন, জিংক, ফসফরাস, নিয়াসিন, ভিটামিন বি১২, থিয়ামিন ও রিবোফ্লাভিন থাকে। এছাড়া সব ধরনের এসেনশিয়াল অ্যামিনো অ্যাসিডের জোগান দেয়, যা শরীর গঠনে গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন ডি-এর ভালো উৎস হওয়ায় হাড় মজবুত করে।
শিশুর জন্য রেডমিট
শিশুর শারীরিক বৃদ্ধিতে প্রোটিন অপরিহার্য। রেডমিট প্রথম শ্রেণির আমিষ, যা সব এসেনশিয়াল অ্যামিনো অ্যাসিডের চাহিদা পূরণ করে। ভিটামিন ডি ও ফসফরাস হাড় ও দাঁত শক্তিশালী করে, জিংক ইমিউনিটি বাড়ায়, ভিটামিন বি স্নায়ু, চোখ ও ত্বক সুরক্ষা দেয়। আয়রন শিশুর অ্যানিমিয়া প্রতিরোধে কার্যকর। তবে অতিরিক্ত রেডমিট কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি বাড়ায়।
গর্ভাবস্থায় রেডমিট
গর্ভাবস্থায় রক্তে লোহিত রক্ত কণিকা কমে যাওয়া সাধারণ, বিশেষ করে দ্বিতীয় ট্রাইমিস্টারে। আয়রনসমৃদ্ধ রেডমিট হিমোগ্লোবিন বাড়াতে সাহায্য করে। আয়রন, জিংক ও ভিটামিন বি গর্ভস্থ সন্তান ও মায়ের সুরক্ষা দেয়। সপ্তাহে অন্তত দুই দিন রেডমিট খেলে ঝুঁকি কমে।
রক্তশূন্যতায় রেডমিট
শুধু শিশু বা গর্ভবতী নয়, যেকোনো ব্যক্তির রক্তশূন্যতার কারণ আয়রনের ঘাটতি। রেডমিট আয়রনের ভালো উৎস, তাই রক্তশূন্যতায় উপকারী। তবে থ্যালাসেমিয়াজনিত রক্তশূন্যতায় রেডমিট খাওয়া নিষেধ।
বয়স্কদের জন্য রেডমিট
৪৫ বছর বয়সের পর বিপাক ক্রিয়া ধীর হয় এবং ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাইপারকোলেস্টেরোলেমিয়ার ঝুঁকি থাকে। যদি এলডিএল ও কোলেস্টেরল স্বাভাবিক থাকে, এইচডিএল বেশি থাকে, উচ্চ রক্তচাপ না থাকে বা হৃদরোগ না থাকে, তাহলে পরিমিত পরিমাণে রেডমিট খাওয়া যেতে পারে।
কিডনি রোগীদের জন্য রেডমিট
স্টেজ-৩ ও পরবর্তী স্টেজের কিডনি রোগীদের জন্য রেডমিট নিষেধ, কারণ এটি উচ্চ রক্তচাপ ও ইউরিক অ্যাসিড বাড়াতে পারে। স্টেজ-১ ও স্টেজ-২-এর রোগীরা প্রতি দুই সপ্তাহে একবার পরিমিত রেডমিট খেতে পারেন।
ওবেসিটি ও রেডমিট
অনেকে ওজন কমাতে রেডমিট বাদ দেন। কিন্তু মাংস প্রোটিনজাতীয় খাবার, যা ওজন বাড়ায় না; ওজন বাড়ায় মাংসের চর্বি ও ঝোল। তাই রক্তে কোলেস্টেরল ও উচ্চ রক্তচাপ বেশি না থাকলে চর্বিবিহীন ও ঝোলছাড়া রেডমিট খাওয়া যেতে পারে।
সতর্কতা
- সপ্তাহে ১ দিনের বেশি রেডমিট খাবেন না।
- বয়স কম এমন গরু, খাসি বা মহিষের মাংস খান (সম্পৃক্ত চর্বি কম)।
- সয়াবিন তেলের পরিবর্তে কম পরিমাণে সরিষা বা সানফ্লাওয়ার তেল ব্যবহার করুন।
- মাংস কাটার সময় অতিরিক্ত চর্বি কেটে ফেলুন।
- মাংসের ঝোল না খাওয়ার চেষ্টা করুন।
- ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার (যেমন লেবু) সঙ্গে খান।
- রান্নায় পটাশিয়ামসমৃদ্ধ সবজি (টমেটো, আলুবোখারা) যোগ করুন, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
- মাংস রান্নার আগে ছোট টুকরা করে কেটে নিন।
- অতিরিক্ত খাওয়া যাবে না, অনেক দিন পর খেলেও।
- কোষ্ঠকাঠিন্য এড়াতে সবজি ও সালাদ খান।
রেডমিট শুনে ভয় না পেয়ে শারীরিক অবস্থা, বয়স, ওজন, উচ্চতা ও বিএমআই অনুযায়ী পরিমিত পরিমাণে খান। শিশুদের প্রতি কেজি ওজনের জন্য ১.৫-২ গ্রাম প্রোটিন দরকার, পূর্ণবয়স্কদের জন্য ১.২-১.৫ গ্রাম। প্রতি ১০০ গ্রাম রেডমিটে গড়ে ২২ গ্রাম প্রোটিন থাকে। প্রয়োজনে ডাক্তার বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন।



