মাত্র ৭ মিনিটের চিকিৎসাতেই কি ক্যানসার নির্মূল সম্ভব? গবেষকরা বলছেন, হ্যাঁ। ক্যানসার চিকিৎসায় '৭ মিনিটের ইনজেকশন' বা সাবকিউটেনিয়াস ইমিউনোথেরাপি প্রথাগত দীর্ঘ ড্রিপের পরিবর্তে দ্রুততম সময়ে কার্যকরী চিকিৎসাসেবা প্রদান করে। এই আধুনিক পদ্ধতিটি ফুসফুস, স্তন ও লিভারসহ নানা ধরনের ক্যানসারে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
ফুসফুসের ক্যানসারের নতুন চিকিৎসা
ফুসফুসের ক্যানসার ক্রমেই ভয়াবহ আকার নিচ্ছে দেশে। এর কারণ কেবল ধূমপান বা বাড়তে থাকা দূষণ নয়, ফুসফুসের ক্যানসারের আরও একটি কারণ হলো— জিনের রাসায়নিক বদল। সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, ফুসফুসে একবার ক্যানসার বাসা বাঁধলে তা কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপিতেও সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। এমনকি ক্যানসার খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে প্রাণসংশয়ের কারণও হয়ে উঠছে। তাই কেমো বা রেডিওথেরাপি নয়, নতুন এক চিকিৎসাপদ্ধতি এসেছে দেশে। মাত্র ৭ মিনিটের চিকিৎসায় ক্যানসার অনেকটা বাগে আনা সম্ভব বলেই দাবি গবেষকদের।
সুইজারল্যান্ডের ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা রশের নতুন পদ্ধতি
সুইজারল্যান্ডের ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা রশ ইমিউনোথেরাপি এক নয়া পদ্ধতি নিয়ে এসেছে দেশে। সে পদ্ধতি অনুমোদনও পেয়েছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, ক্যানসারের চিকিৎসায় দিনের পর দিন হাসপাতালে থাকতে হবে না রোগীকে। মাত্র ৭ মিনিটের এক থেরাপিতেই কাজ হবে। রোগীকে যন্ত্রণা পোহাতেও হবে না।
অ্যাটেজোলিজুমাব: কীভাবে কাজ করে?
ফুসফুসের ক্যানসারের ক্ষেত্রে চিকিৎসা পদ্ধতিতে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। কেমোথেরাপির বিকল্প হিসেবে ওষুধের ব্যবহার হয়ে উঠেছে প্রধান অস্ত্র। ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা রশ যে ওষুধটি নিয়ে এসেছে তার নাম ‘অ্যাটেজোলিজুমাব’। সেটি নির্দিষ্ট ডোজে ইনজেকশনের মাধ্যমে দেওয়া হবে রোগীকে। ওষুধটির কাজ হবে ক্যানসার প্রোটিনকে বেঁধে ফেলা, যাতে তার দ্রুত বিস্তার ঘটতে না পারে। এ পদ্ধতিতে কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপির মতো যন্ত্রণা হবে না রোগীর। বরং নিজস্ব রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণে বেড়ে যাবে।
ইমিউনোথেরাপির মূলনীতি
ইমিউনোথেরাপির কাজই হলো শরীরের নিজস্ব রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তুলে রোগের মোকাবিলা করা। যাতে প্রতিরোধী কোষগুলো আবার জেগে উঠে লড়াই করতে পারে। এতে পাকাপাকিভাবে ক্যানসার কোষগুলোকে নির্মূল করা সম্ভব হয়। শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধ শক্তিও সতেজ হয়ে ওঠে। তার জন্য কিছু ওষুধ দিতে হয় মাত্র। নতুন ওষুধটিও সেভাবেই কাজ করবে বলে দাবি গবেষকদের।
জিনগত বদল ঠেকাতেও কার্যকর
ফুসফুসের ক্যানসারে রোগীর জিনগত বদলও হয়। আক্রান্ত রোগীদের শরীর থেকে নেওয়া নমুনার জিনগত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ‘ইজিএফআর’ ও ‘টিএসজি’ নামে দুটি জিনে রাসায়নিক বদল আসে। এই বদল যদি খুব দ্রুত ঘটে, তাহলে রোগীর বেঁচে থাকার মেয়াদ কমে যায়। এ দুই জিনের বদল ঠেকাতেও ইমিউনোথেরাপির নতুন পদ্ধতিটি কাজে আসতে পারে বলেও আশা রাখছেন গবেষকরা।
সূত্র: দি নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস



