চট্টগ্রামে হামের সংক্রমণ কমছে না, চিহ্নিত ৯ হটস্পট
চট্টগ্রামে হামের সংক্রমণ কমছে না, ৯ হটস্পট চিহ্নিত

চট্টগ্রামে হামের সংক্রমণ কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। একইসঙ্গে সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে ৯টি হটস্পট চিহ্নিত করা হয়েছে চট্টগ্রামে। নগরীর যেসব এলাকায় হামের রোগী বেশি শনাক্ত হয়েছে, সেই তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (১১ মে) ‘হটস্পট’ নির্ধারণের কথা জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার সার্ভিল্যান্স অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন মেডিকেল অফিসার (এসআইএমও) খাদিজা আহমেদ।

একইসঙ্গে শিশুদের পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্করাও আক্রান্ত হচ্ছেন বলে স্বাস্থ্য বিভাগ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। খাদিজা আহমেদ বলেন, ডব্লিউএইচওর গাইডলাইন অনুসারে এখন বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতি চলছে। শুধু চট্টগ্রামে নয়, সবখানে পজিটিভ কেস আছে। হাম ছড়িয়ে পড়েছে।

হটস্পট এলাকাসমূহ

হটস্পটগুলো হলো- নগরীর ২ নম্বর জালালাবাদ, ৪ নম্বর চান্দগাঁও, ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী, ১৪ নম্বর লালখান বাজার, ১৮ নম্বর পূর্ব বাকলিয়া, ৩১ নম্বর আলকরণ, ৩৮ নম্বর দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর, ৩৯ নম্বর দক্ষিণ হালিশহর ও ৪০ নম্বর উত্তর পতেঙ্গা ওয়ার্ড।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সংক্রমণ

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন জানান, বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে ছয়জন প্রাপ্তবয়স্ক চমেকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে হাসপাতালের এক ২৫ বছর বয়সী ইন্টার্ন চিকিৎসকও হামে আক্রান্ত হয়েছিলেন। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে চমেকের হামের বিশেষায়িত ওয়ার্ডে ৬ জন রোগীর বয়স ১৪-২৪ বছর বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতিরোধ ও চিকিৎসা

হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় টিকাদান। একই সঙ্গে জনসমাগম এড়িয়ে চলা, হাঁচি-কাশির সময় স্বাস্থ্যবিধি মানা, নিয়মিত হাত ধোয়া এবং মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, ঘনবসতিপূর্ণ ও শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলোতে সংক্রমণ বেশি ছড়াচ্ছে। বিশেষ করে বন্দর-পতেঙ্গা, সদরঘাট-আলকরণ-কোতোয়ালি এবং বাকলিয়া এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি।

চমেক হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভর্তি থাকা বেশিরভাগ শিশুর পরিবারের অন্য কোনো শিশুর কয়েকদিন আগে হাম হয়েছিল। পরে একই পরিবারের আরও শিশু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে অনেকের শরীরে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিচ্ছে। তবে কেউ দ্রুত হাসপাতালে এলে তুলনামূলক দ্রুত সুস্থও হয়ে উঠছে।

দেশব্যাপী প্রাদুর্ভাব

এদিকে, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় হাম রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কুতুবদিয়া, মহেশখালী, কক্সবাজার, চাঁদপুর ও সাতকানিয়া এলাকা হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত, এসব স্থান থেকেই বেশি রোগী আসছে। চমেক হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসা বলেন, হামের প্রাদুর্ভাবের পর শিশু ভর্তি ও মৃত্যুর হার তুলনামূলক বেড়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিউমোনিয়া ও অন্যান্য জটিলতা যুক্ত হয়ে পরিস্থিতি গুরুতর হচ্ছে।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক তসলিম উদ্দিন বলেন, বর্তমানে প্রায় ১৩০ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ১৫ জন আইসিইউতে আছে। প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে।