গবেষণা বরাদ্দ ইউজিসির নয়, সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়কে দেওয়ার দাবি ছাত্র ফ্রন্টের
গবেষণা বরাদ্দ সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়ার দাবি

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট গবেষণা খাতের বরাদ্দ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অধীনে না রেখে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে গবেষণা, আবাসন, চিকিৎসা, পরিবহণ ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণ সংশ্লিষ্ট খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সঞ্চালনা করেন এবং লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শাখার আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক। এ সময় সংগঠনের সদস্য রাসেল হোসেন, অর্থ মিত্র, তানজিলা প্রভা এবং কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক রুকু খাতুনসহ অন্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে মোজাম্মেল হক বলেন, এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের মোট বাজেটের ১০ থেকে ২৫ শতাংশ মৌলিক ও ফলিত গবেষণায় ব্যয় করে। অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা খাতে বরাদ্দ অত্যন্ত সীমিত। এ বছর গবেষণার অর্থ সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়কে না দিয়ে ইউজিসির মাধ্যমে বরাদ্দ রাখার সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের পরিপন্থী এবং স্বাধীন গবেষণায় হস্তক্ষেপের শামিল।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন

তিনি বলেন, কোন বিষয়ে গবেষণা হবে এবং কোন খাতে কত অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে, তা নির্ধারণের পূর্ণ এখতিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের। এ অধিকার কোনোভাবেই খর্ব করা যাবে না। তাই গবেষণা খাতের বরাদ্দ সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণে রাখার দাবি জানান তিনি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সংগঠনের নেতারা বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট খাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। বরাদ্দের বড় একটি অংশ শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা ও পরিচালন ব্যয়ে ব্যয় হবে। ফলে গবেষণা, আবাসন, খাদ্য, চিকিৎসা ও পরিবহণ খাত উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। এতে মূল্যস্ফীতির বাজারে উচ্চশিক্ষার ব্যয় আরও বেড়ে যাবে এবং অনেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।

উচ্চশিক্ষার বেসরকারিকরণের অভিযোগ

তারা আরও বলেন, শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার হলেও পর্যাপ্ত রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ না দিয়ে সরকার উচ্চশিক্ষাকে সংকুচিত করছে। একই সঙ্গে ধীরে ধীরে উচ্চশিক্ষাকে বেসরকারিকরণ ও বাণিজ্যিকীকরণের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে প্রণীত ইউজিসির কৌশলপত্র অনুসারে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ আয় ৮৫ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। এই আয় বাড়ানোর জন্য শিক্ষার্থীদের ওপর বেতন, ভর্তি ফি, আবেদন ফি, উন্নয়ন ফিসহ বিভিন্ন ধরনের ফি বাড়ানোর চাপ সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক কোর্স চালু, বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো ভাড়া দেওয়া এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অনুদানের ওপর নির্ভরশীলতা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক স্বাধীনতা ও মৌলিক চরিত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও দাবি করেন তারা।

ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করা, গবেষণার অর্থ সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতে দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।