স্বপ্নের পথে মোহনা
রাজশাহীর আলোর পাঠশালার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহনা আক্তার স্বপ্ন দেখে নার্স হয়ে মানুষের সেবা করার। অভাব-অনটন আর নিত্যদিনের টানাপোড়েন যেখানে নিয়তি, সেখানে স্বপ্ন দেখা অনেকের কাছেই এক বিলাসিতা। কিন্তু সব প্রতিকূলতাকে জয় করে, সীমাবদ্ধতার গণ্ডি ভেঙে এক বুক স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলেছে মোহনা আক্তার। রাজশাহীর আলোর পাঠশালার সপ্তম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর চোখে এখন একটাই লক্ষ্য—ভবিষ্যতে একজন দক্ষ নার্স হয়ে অসহায় মানুষের সেবা করা।
পরিবারের সংগ্রাম
তিন বোনের মধ্যে মোহনা সবার ছোট। বড় ও মেজ বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। মেজ বোন মেঘলাও গত বছর এই একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সফলভাবে এসএসসি পাস করেছে। বর্তমানে মোহনা তার দিনমজুর বাবা-মায়ের সাথে বসবাস করছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তার বাবা, যিনি কাঠের বার্নিশের কাজ করে কোনোমতে সংসার চালান। অল্প আয়ের এই পরিবারে প্রতিদিনের টানাপোড়েন যেখানে নিত্যদিনের সঙ্গী, সেখানে মোহনার অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর এগিয়ে যাওয়ার সাহস সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।
নার্স হওয়ার লক্ষ্য
নিজের ভবিষ্যৎ স্বপ্ন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মোহনা জানায়, সে বড় হয়ে একজন নার্স হতে চায়। তার মতে, মানুষের পাশে দাঁড়ানোই জীবনের সবচেয়ে বড় মানবিক দায়িত্ব। অসুস্থ ও অসহায় মানুষের সেবা করার মাধ্যমে যেমন সমাজের কল্যাণ সম্ভব, ঠিক তেমনি নিজের পরিবারকেও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা যায়। তার এই স্বপ্ন কেবল তার নিজের একার নয়, বরং পুরো পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর এক নীরব সংগ্রাম।
আলোর পাঠশালার ভূমিকা
মোহনার এই স্বপ্নপূরণের লড়াইয়ে বড় এক আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রথম আলো ট্রাস্টের সহযোগিতায় পরিচালিত ‘রাজশাহী আলোর পাঠশালা’। প্রতিষ্ঠানটি শুধু তাকে বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগই করে দিচ্ছে না, বরং তার ভেতরের সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তুলতে রাখছে প্রতিনিয়ত অবদান। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, মোহনা অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী। তার এই একাগ্রতা বজায় থাকলে সে একদিন অবশ্যই তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে। শিক্ষকদের স্নেহ, সহযোগিতা এবং প্রতিনিয়ত উৎসাহে মোহনা প্রতিদিন তার স্বপ্নের দিকে এক ধাপ করে এগিয়ে যাচ্ছে। সব বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে মোহনার এই সংগ্রামী জীবন এবং নার্স হওয়ার স্বপ্ন একদিন বাস্তবে রূপ নেবে এবং সে সমাজের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করবে—এমনটাই প্রত্যাশা তার শিক্ষক ও স্থানীয়দের।



