এক শ্রেণিকক্ষে সর্বোচ্চ ২০ শিক্ষার্থী থাকা উচিত: সাঈদ আল নোমান
এক শ্রেণিকক্ষে সর্বোচ্চ ২০ শিক্ষার্থী থাকা উচিত: সাঈদ আল নোমান

সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেছেন, একটি শ্রেণিকক্ষে সর্বোচ্চ ২০ জন শিক্ষার্থী থাকা উচিত। তিনি বলেন, এতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর প্রতি শিক্ষক প্রয়োজনীয় মনোযোগ দিতে পারবেন এবং তাদের দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের র‍্যাডিসন ব্লু বে ভিউ হোটেলের মেজবান হলে ইস্ট ডেল্টা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ‘অ্যানুয়াল নাইট অ্যান্ড গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠান ২০২৬’–এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রথম বার্ষিক সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা

প্রতিষ্ঠানটির প্রথম বার্ষিক সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা হিসেবে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সাফল্য ও সৃজনশীল প্রতিভাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং শিক্ষা, প্রশাসন, ব্যবসা ও সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

শিক্ষার দুটি দিক

ইস্ট ডেল্টা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সাঈদ আল নোমান বলেন, শিক্ষার দুটি দিক রয়েছে। একটি হলো আলোকিত সমাজ গঠন, অন্যটি হলো এমন শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া, যার মাধ্যমে একজন মানুষ জীবিকা নির্বাহ করতে সক্ষম হবে। শিক্ষা বাস্তব জীবনের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর সমস্যা

সাঈদ আল নোমান আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের স্কুলগুলোতে সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হলো একটি শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী। ফলে পেছনের সারির শিক্ষার্থীরা অনেক সময় শিক্ষকের কথা ঠিকমতো শুনতে পারে না। এ জন্য একটি শ্রেণিকক্ষে সর্বোচ্চ ২০ জন শিক্ষার্থী থাকা উচিত, যাতে প্রত্যেককে আলাদাভাবে শেখানো এবং যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলা যায়।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শিক্ষার মান উন্নয়নে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা

সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকায় প্রায় ৬৫টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে আমি বৈঠক করেছি। একটি বা দুটি বিদ্যালয়ের উন্নতি হলে হবে না, দেশের সব বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান একসঙ্গে উন্নত করতে হবে। জনপ্রতিনিধি এবং শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এ বিষয়ে আরও গভীরভাবে কাজ করতে হবে।’

সুযোগের বৈষম্য দূরীকরণ

শিক্ষার্থীদের সুযোগের বৈষম্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় প্ল্যাটফর্ম পাওয়ার ক্ষেত্রে যে বৈষম্য রয়েছে, তা দূর করতে হবে। সব শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে পারলেই দেশের মানবসম্পদের সর্বোচ্চ বিকাশ সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক নাজিম উদ্দিন, বিশ্ববিদ্যালয়টির ট্রেজারার সিদ্দিক আহমেদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী, ইস্ট ডেল্টা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের হেড অব স্কুল ফজিলাতুন্নেসা সচী এবং ভাইস প্রিন্সিপাল হুরাইন সাত্তার।

গ্র্যাজুয়েশন সেরিমনি ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল গ্র্যাজুয়েশন সেরিমনি। এতে প্রাক্‌-প্রাথমিক থেকে প্রাথমিক এবং প্রাথমিক থেকে উচ্চতর শ্রেণিতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সম্মাননা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষামূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা মঞ্চস্থ হয়।