শিক্ষাক্রমে সংস্কৃতি-ক্রীড়া ও প্রতিভা বিকাশের প্লাটফর্ম থাকবে: মাহদী আমিন
শিক্ষাক্রমে সংস্কৃতি-ক্রীড়া ও প্রতিভা বিকাশের প্লাটফর্ম চান প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা চান যেখানে শিক্ষাক্রমের ভেতরে সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের প্লাটফর্ম থাকবে। যেই শিক্ষার্থী যা করতে ভালোবাসে, সরকার তার সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেবে। সোমবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

বৃক্ষরোপণ ও উদ্ভাবন প্রদর্শনী

অনুষ্ঠানটি সারা দেশে মাধ্যমিক স্কুল পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ জাতীয় প্রদর্শনী উপলক্ষ্যে আয়োজিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

নতুন ইতিহাস গড়ার দাবি

মাহদী আমিন বলেন, ‘আয়োজনটা অনেকটাই ভিন্নমাত্রিক, অত্যন্ত বৈচিত্রময়। আমরা বাংলাদেশের একটা নতুন ইতিহাস গড়েছি। সরকার গঠনের পর স্বল্প সময়ে প্রতিটি জেলা, ইউনিয়ন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এটি প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক রূপকল্পের প্রতিফলন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সৌভাগ্যবান যে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের মূল প্রেরণা প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি কোভিডের সময় খুদে বিজ্ঞানীদের নিয়ে ভার্চুয়াল সায়েন্স ফেয়ার আয়োজন করেছিলেন।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ও সুরভির ভূমিকা

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, ‘জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন’ ও ‘সুরভি’ দীর্ঘদিন ধরে সৃজনশীল কাজ করছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার জাতীয় পর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী ও ডা. জুবাইদা রহমানকে কৃতজ্ঞতা জানান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নির্বাচনি ইশতেহারের ১০টি বিষয়

আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি ইশতেহারের ১০টি বিষয় কাভার করা হয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সবসময় বলেন, আমরা এমন বাংলাদেশ চাই যেখানে সমতা থাকবে, কোনো বৈষম্য থাকবে না। আজ ৬৪ জেলার প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। এখানে ১০ জন শিক্ষার্থী বাংলাদেশের প্রতিটি ডেমোগ্রাফি কাভার করেছে। ১০১টি প্রজেক্টে তৃণমূল থেকে রাজধানী পর্যন্ত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে।’

সবার অংশগ্রহণ ও নারী শিক্ষার্থীদের প্রাধান্য

মাহদী আমিন বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত করেছি, এখানে সকল ধর্ম, বর্ণ, অবস্থান ও ভৌগোলিক পরিবেশের মানুষ এক হয়েছে। এটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের প্রতিফলন এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রতীক।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিযোগিতায় ৮০০০-এর বেশি টিম, প্রায় ২৪০০০ শিক্ষার্থী ও ১৬০০০ শিক্ষক অংশগ্রহণ করেছেন। নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছেলেদের চেয়ে অনেক বেশি।’

স্বনির্ভর বাংলাদেশ ও স্টার্টআপ প্রকল্প

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ চান। প্রতিটি স্টার্টআপ প্রকল্প সমাজের বিদ্যমান সমস্যার সমাধান করবে, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করবে। আমরা প্রতিটি প্রকল্পকে নার্চার করব, প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা দেব এবং মাসিক আপডেট নেব।’

শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক ও পুরস্কার

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা ব্যবস্থার মূল কাণ্ডারি শিক্ষার্থী এবং তাদের গড়ে তোলার কারিগর শিক্ষক। প্রতিটি টিমে তিনজন শিক্ষার্থী ও দুইজন শিক্ষক রয়েছেন। আজ ১০৪২ জন শিক্ষককে ‘সুশিক্ষায় মেধাবী শিক্ষক অ্যাওয়ার্ড’ এবং ১০১ টি দলের ৩০৩ জন শিক্ষার্থীকে ‘উদ্ভাবনে মেধাবী শিক্ষার্থী অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হবে।’

ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি কর্মসূচি

মাহদী আমিন জানান, ‘প্রধানমন্ত্রীর ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ স্কিমের আওতায় সারা দেশে ২৯,৬২১টি প্রতিষ্ঠানে তিনটি করে বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে, মোট ৮৮,৮৬৩টি গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।’ অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ দেশের বিভিন্ন বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।