শিক্ষামন্ত্রীর ক্ষোভ: ফেসবুক বট বাহিনীর অপপ্রচার ও শিক্ষার মান উন্নয়নে নতুন সেল
শিক্ষামন্ত্রীর ক্ষোভ: ফেসবুক বট বাহিনীর অপপ্রচার

ফেসবুক বট বাহিনীর অপপ্রচারে ক্ষুব্ধ শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সক্রিয় বট বাহিনীর অপপ্রচার ও ভুয়া তথ্য ছড়ানো নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, "ফেসবুকে বট বাহিনী আমাকে নিয়ে ভুয়া ফটোকার্ড বানায়, আমাকে নিয়ে ট্রল করে। এই বট বাহিনী কী যে শুরু করেছে আমাকে নিয়ে। আমি নাকি পরীক্ষার রুটিন দেব পরীক্ষার দিন, এসব অপপ্রচার চালায়।"

শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের বিকৃতি

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, "আমি বললাম, এইবার জিরো পাস করলেও এমপিও বাতিল হবে না; আর বট বাহিনী লিখে দিল- এবার ফেল করলে এমপিও বাতিল। এখন দেখা যায় ফেসবুকেই দেশ চালায়।" তার এই মন্তব্য শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে করা হয়।

শিক্ষার মান উন্নয়নে বিশেষ সেল গঠন

"আই ওয়ান্ট টু সি এভরিথিং" মন্তব্য করে শিক্ষামন্ত্রী জানান, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় কীভাবে কাজ করছে সেটা দেখার জন্য তিনি মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ সেল গঠন করছেন। ইউজিসির রিপোর্টের পাশাপাশি তার নিজস্ব রিপোর্টও থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দুর্বলতা চিহ্নিত

এহছানুল হক মিলন বলেন, "সরকার বাজেটের কথা বলেছে, আমি সেটা নিতে পারছি না। আমি দেখলাম না আমাদের এই ইউনিভার্সিটির ভিসি এডুকেশনাল কোয়ালিটি কীভাবে ডেভেলপমেন্ট করা যায়, সেই খাতে একটি টাকাও চেয়েছে। আমার কাছে তো চাইতে হবে। সব সেই পুরোনো দিনের কথা শুধু বিল্ডিং, বিল্ডিং আর বিল্ডিং। কোয়ালিটি এডুকেশন লাগবে না। সেই জায়গায় আমরা অত্যন্ত দুর্বল।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিশ্বায়নের যুগে শিক্ষার গুরুত্ব

মন্ত্রী আরও বলেন, "আমাদের জনসংখ্যার অভাব নেই। আমাদের ছাত্রছাত্রীর অভাব নেই। সুতরাং, বিশ্বের অন্যান্য দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রের অভাব; আমাদের সেই অভাব নেই। বিশ্বায়নের যুগে এগিয়ে যেতে আমাদের কোনো বাধা নেই। বিশ্বায়নের যুগে টিকে থাকতে না পারলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার।"

ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানের বিস্তারিত

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম ও বিভিন্ন সহায়ক সেবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতেই এই আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এনামউল্যা।

অনুষ্ঠানের সূচি অনুযায়ী, সকাল ১১টায় অতিথি ও শিক্ষার্থীদের আসন গ্রহণের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ, প্রধান ও বিশেষ অতিথিদের বরণ এবং নবাগত শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিক বরণ অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ

নবীনদের পক্ষ থেকে বক্তব্য, স্বাগত বক্তব্য ও শুভেচ্ছা বক্তব্যের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা পর্যায়ক্রমে বক্তব্য দেন। এদের মধ্যে রয়েছেন:

  • রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আবু হাসান
  • প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. নওশের ওয়ান
  • পরিচালক (ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা) অধ্যাপক ড. এস. এম. এমদাদুল হাসান
  • ট্রেজারার অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর কবির
  • প্রো ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম সিকদার

এ ছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের একাধিক সদস্যও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন:

  • জাতীয় সংসদের হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া
  • সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম
  • মো. সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক
  • মো. মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু