ডিআইইউর অধ্যাপক ড. এম এ রহিমের জন্য স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬ লাভ করেছেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) অধ্যাপক ড. এম এ রহিম। কৃষি গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও শিক্ষাক্ষেত্রে তার দীর্ঘদিনের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন অধ্যাপক রহিম।
কৃষি গবেষণায় অনন্য অবদান
বর্তমানে ড. রহিম ডিআইইউর কৃষি অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন এবং কৃষি বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার নেতৃত্বে উচ্চফলনশীল ও উন্নত চারটি কাঁঠালের জাত—DIU Jackfruit-1, DIU Jackfruit-2, DIU Jackfruit-3 এবং DIU Jackfruit-4—জাতীয় বীজ বোর্ড ও কৃষি মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত ও নিবন্ধিত হয়েছে। এই উদ্ভাবন টেকসই কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ড. রহিম বাংলাদেশের কৃষি গবেষণা ও ফল উন্নয়নের ক্ষেত্রে একজন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। তিনি মোট ১২৮টি নতুন ফলের জাত উদ্ভাবন করেছেন, যার মধ্যে বহুল জনপ্রিয় BAU Kul অন্তর্ভুক্ত। তার এই কাজ ফল চাষে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে এবং কৃষি অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।
দীর্ঘ কর্মজীবন ও অর্জন
ড. এম এ রহিম বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন এবং ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। যুক্তরাষ্ট্রে পোস্টডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করার পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক, বিভাগীয় প্রধান এবং কৃষি অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তার গবেষণামূলক কাজের পরিসংখ্যান অত্যন্ত প্রভাবশালী:
- ৪০০-এর বেশি বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ প্রকাশ
- ২০টির বেশি গবেষণা প্রকল্প পরিচালনা
- ১০১ জন পিএইচডি ও ৩৫০ জন এমএস শিক্ষার্থীর তত্ত্বাবধান
- ১০টি বই রচনা ও অসংখ্য শিক্ষামূলক প্রকাশনা তৈরি
পুরস্কার ও স্বীকৃতি
স্বাধীনতা পুরস্কারের আগেও ড. রহিম একাধিক মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার লাভ করেছেন:
- ২০০৪, ২০১২ ও ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক
- ২০১৪ সালে বঙ্গবন্ধু কৃষি পুরস্কার
- ২০১২ সালে বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস স্বর্ণপদক
- ২০১৬ সালে বাংলাদেশ একাডেমি অব এগ্রিকালচার স্বর্ণপদক
- ২০২৪ সালে প্রথম আলো কৃষি লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড
- চ্যানেল আই ও আরটিভি কর্তৃক লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট সম্মাননা
প্রতিষ্ঠানের প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
ড. রহিমের এই অর্জনে ডিআইইউ পরিবার গভীর গর্ব ও সন্তোষ প্রকাশ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ, প্রশাসন, শিক্ষকবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। এই জাতীয় স্বীকৃতি শিক্ষা ও গবেষণায় ডিআইইউর উৎকর্ষতার প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মনে করে, ড. রহিমের এই অর্জন নতুন প্রজন্মের গবেষকদের উদ্ভাবনে উৎসাহিত করবে এবং জাতীয় ও বৈশ্বিক উন্নয়নে অবদান রাখতে অনুপ্রাণিত করবে। কৃষি শিক্ষা ও উদ্ভাবন প্রসারে তার কাজ দেশের কৃষি খাতকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ৫ মার্চ জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬-এর জন্য মোট ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ৫টি প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করা হয়েছে। ড. এম এ রহিমের এই স্বীকৃতি কৃষি গবেষণা ও শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



