মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের শিখনফল যাচাইয়ে নাস পাইলট পরীক্ষা বৃহস্পতিবার
মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের শিখনফল যাচাইয়ে নাস পাইলট পরীক্ষা

মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের শিখনফল যাচাইয়ে নাস পাইলট পরীক্ষা বৃহস্পতিবার

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের শিখনফল নির্ধারণ এবং শিক্ষাব্যবস্থার সক্ষমতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দেশের নির্বাচিত ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ন্যাশনাল অ্যাসেসমেন্ট অব সেকেন্ডারি স্টুডেন্টস’-এর (নাস) পাইলটিং পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

সোমবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এক অফিস আদেশে এ কথা জানানো হয়েছে। মাউশি জানিয়েছে, বিশ্বব্যাংকের ঋণসহায়তায় বাস্তবায়নাধীন ‘লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস)’ প্রকল্পের আওতায় এই জাতীয় মূল্যায়ন কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের ঋণ ছাড়ের শর্ত

ঋণচুক্তির শর্তানুসারে, সফলভাবে এই মূল্যায়ন সম্পন্ন করার বিপরীতে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ সরকারকে ৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ ছাড় করবে। এই অর্থ ছাড়ের মাধ্যমে শিক্ষা খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পাইলটিং কর্মসূচির বিস্তারিত

পাইলটিং কর্মসূচির আওতায় মূলত প্রণীত প্রশ্নপত্রের সঠিকতা ও কার্যকারিতা যাচাই করা হবে। দেশের ৩০টি উপজেলা থেকে নির্বাচিত ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এতে ষষ্ঠ, অষ্টম ও দশম শ্রেণির (যারা বর্তমানে সপ্তম ও নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত এবং এসএসসি/দাখিল পরীক্ষার্থী) শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করবে।

বাংলা, গণিত ও ইংরেজি—এই তিন বিষয়ের ওপর মূল্যায়ন পরিচালিত হবে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে লটারি বা নির্দিষ্ট বিরতি পদ্ধতিতে, প্রতি শ্রেণিতে ৩০ জন করে মোট ৯০ শিক্ষার্থী এ প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরীক্ষার সময়সূচি ও ব্যবস্থাপনা

সময়সূচি অনুযায়ী, ১৬ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে পরীক্ষা শুরু হবে। বাংলা পরীক্ষা সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে ১০টা ৪০ মিনিট, ইংরেজি বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ১০ মিনিট এবং গণিত দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বেলা ১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি বিষয়ের মাঝখানে ২০ মিনিটের বিরতি থাকবে।

পরীক্ষা আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানকে সদস্যসচিব করে পাঁচ সদস্যের একটি ‘পরীক্ষা আয়োজন কমিটি’ গঠন করা হয়েছে।

প্রশিক্ষণ ও উত্তরপত্র ব্যবস্থাপনা

আদেশে আরও বলা হয়েছে, পরীক্ষার আগের দিন সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কমিটির সদস্যদের ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পরীক্ষা শেষে সিলগালা করা উত্তরপত্রগুলো নিরাপদ ব্যবস্থাপনায় ‘লেইস’ প্রকল্প কার্যালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য

দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের প্রধান বিষয়গুলোতে (বাংলা, গণিত ও ইংরেজি) শিখনফল নির্ধারণ করা এবং শিক্ষাব্যবস্থার সবলতা ও দুর্বলতার দিকগুলো চিহ্নিত করা এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। এই মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

আদেশে সংশ্লিষ্ট সব জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের এই জাতীয় কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।