ডাকসু সাহিত্য সম্পাদকের বাংলা মাসের নাম বলতে বিভ্রান্তি, নেটিজেনদের সমালোচনা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দেক ইবনে আলী মোহাম্মদ বাংলা ১২ মাসের নাম বলতে গিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েছেন। পহেলা বৈশাখে এক আলাপচারিতায় তাকে বাংলা ১২ মাসের নাম জিজ্ঞেস করা হলে তিনি ধারাবাহিকভাবে ও পূর্ণাঙ্গভাবে মাসের নামগুলো বলতে ব্যর্থ হন।
বিভ্রান্ত উত্তর ও সামাজিক মাধ্যমের প্রতিক্রিয়া
১২ মাসের নাম বলতে গিয়ে মোসাদ্দেক বলেন, ‘আষাঢ়, জ্যৈষ্ঠ, শ্রাবণ, আশ্বিন, কার্তিক, পৌষ, মাঘ, অগ্রহায়ণ, ভাদ্র... হয়ে গেছে? হয়েছে? ফাল্গুন, ১২টা হয়েছে?’ তার এই অসংলগ্ন উত্তর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে একটি ছাত্র সংসদের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে বাংলা মাসের নাম বলতে না পারা নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
তৈল দেওয়া ও পহেলা বৈশাখের তাৎপর্য নিয়ে মন্তব্য
আলোচনা চলাকালে মোসাদ্দেক তোষামোদ বা ‘তৈল’ দেওয়া নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলা সাহিত্যের বিজ্ঞ পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর বিখ্যাত প্রবন্ধ ‘তৈল’-এর কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, মানুষ তৈলশিল্পকে উন্নতির এমন শিখরে নিয়ে গেছে যা শাস্ত্রী নিজেও লিখে যেতে পারেননি। তিনি মনে করেন, সমাজের কিছু মানুষ ক্ষমতার তোষণ বা চাটুকারিতার মাধ্যমে স্বার্থ হাসিল করতে চায়, হোক সেই ক্ষমতা ফ্যাসিবাদী বা স্বৈরাচারী।
পহেলা বৈশাখের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মোসাদ্দেক ইবনে আলী মোহাম্মদ বলেন, এটি কখনো কৃষকের চোখের জল, আবার কখনো কৃষকের মুখের হাসি। তবে বাঙালির অন্যতম প্রধান উৎসব পহেলা বৈশাখ নিয়ে কথা বললেও খোদ বাংলা মাসগুলোর নাম সঠিকভাবে বলতে না পারায় তার সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অনলাইন চর্চা ও ভবিষ্যত প্রভাব
সংশ্লিষ্ট ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিষয়টি অনলাইনে বেশ চর্চিত হচ্ছে। নেটিজেনরা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিভাগের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। অনেকের মতে, একজন সাহিত্য সম্পাদকের জন্য বাংলা মাসের নাম জানা মৌলিক জ্ঞান হওয়া উচিত। এই ঘটনা ভবিষ্যতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন ও নেতৃত্বের মানদণ্ড নিয়ে আলোচনা বাড়াতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।



