যশোরের মেধাবী শিক্ষার্থী ঐশির অসাধারণ সাফল্য: জিএসটি ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান
যশোরের ফারহানা সুলতানা ঐশি গুচ্ছভুক্ত (জিএসটি) ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় অসামান্য কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। ব্যবসায় অনুষদভুক্ত ‘সি’ ইউনিটে তিনি সর্বোচ্চ ৮৫ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। এই সাফল্য তার ধারাবাহিক মেধারই স্বাক্ষর বহন করছে।
চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট হওয়ার স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ঐশি সোমবার বিকালে নিজ বাসগৃহে দৈনিক যুগান্তরকে বলেন, “আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়তে চাই। সেখানে ইতোমধ্যে অ্যাকাউন্টিংয়ে ভর্তিও হয়েছি। ভবিষ্যতে চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট (সিএ) হয়ে দেশসেবা করার ইচ্ছা আমার।” তার এই উচ্চাকাঙ্ক্ষা তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক।
শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিক সাফল্য
ঐশি যশোর সদরের নওয়াপড়া ইউনিয়নের শেখহাটি তরফ নওয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মেহেদী হাসান ও রাফেজা খাতুন দম্পতির একমাত্র সন্তান। তার শিক্ষাজীবন শুরু হয় আইইডিবি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে, যেখান থেকে পিইসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পান। এরপর শেখহাটি শফিয়ার রহমান মডেল একাডেমিতে ভর্তি হন, কিন্তু করোনা মহামারির কারণে জেএসসি পরীক্ষা না হলেও ২০২৩ সালে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ ও ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পান।
যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ ও ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়ে তিনি যশোর শিক্ষাবোর্ডে তৃতীয় স্থান অধিকার করেন। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিযুদ্ধে তাকে সহায়তা করেন কোচিং সেন্টার প্যারাগনের পরিচালক বাকী বিল্লাহ, যিনি বই কিনতে বা টাকা নেননি, এমনকি রেজিস্ট্রেশনেও সহযোগিতা করেছেন।
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উল্লেখযোগ্য অর্জন
জিএসটি ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হওয়া ছাড়াও ঐশি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও কৃতিত্ব দেখিয়েছেন:
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সি’ ইউনিটে ৮০তম স্থান
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বি’ ইউনিটে ১৬তম স্থান
- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ই’ ইউনিটে তৃতীয় স্থান
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বি’ ইউনিটে প্রথম স্থান
পারিবারিক পৃষ্ঠপোষকতা ও আর্থিক সংকট মোকাবেলা
ঐশির বাবা যশোর শহরের একটি কাপড়ের দোকানে কাজ করেন এবং মা গৃহিণী। তারা সাড়ে চার কাঠা জমির উপর একতলা বাড়িতে বাবা ও চাচার পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। তার সাফল্যের পেছনে মা, দাদি ফরিদা বেগম, খালা রাবেয়া আক্তার, চাচা ইবনে হাসান রবিন এবং শিক্ষকদের অবদান অপরিসীম। দাদি তাকে ৫ম শ্রেণি থেকে এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রে নিয়ে যেতেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষার আগে টাকার সংকটে পড়লেও কলেজের এক বড়ভাই তার বিকাশে টাকা পাঠিয়ে সহায়তা করেন। ঐশি বলেন, “টাকা-পয়সার সংকট থাকলেও পড়াশোনার ক্ষেত্রে কিভাবে যেন সব জোগাড় হয়ে গেছে।”
শিক্ষকদের প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
যশোর সরকারি এমএম কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক রেহমান আজিজ বলেন, “সে খুবই মেধাবী। এই মেয়েটা যেখানে পরীক্ষা দিয়েছে, সেখানেই কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে।” বিএএফ শাহীন কলেজের ইংরেজি বিভাগের সাইমিনা খাতুন ম্যাডামও তাকে সহযোগিতা করেছেন।
ঐশি দরিদ্র ছেলেমেয়েদের জন্য ভবিষ্যতে কিছু করার ইচ্ছা পোষণ করেন এবং বলেন, “আপনারা শুধু দোয়া করবেন।” তার এই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি তাকে আরও অনন্য করে তোলে।



