প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের শিশুদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আশা করি এই আহ্বান গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হবে। শারীরিক কার্যকলাপ, বিনোদন এবং খেলাধুলার মাধ্যমে দলগত কাজ ও শৃঙ্খলার শিক্ষা ছাড়া শিক্ষা সম্পূর্ণ হতে পারে না। একটি সুস্থ জাতির জন্য শুধু শিক্ষিত মন নয়, সক্রিয় শরীরও প্রয়োজন।
অবকাঠামোর অভাব
তবে শুধু শিশুদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করা দুঃখজনকভাবে অপর্যাপ্ত। বাংলাদেশে আজ, বিশেষ করে শহরাঞ্চলে এবং রাজধানীর মতো বড় শহরে, বিনোদনের জায়গা প্রায় হারিয়ে গেছে। খেলার মাঠ, ময়দান এবং পার্ক কংক্রিটের নিচে চাপা পড়েছে।
স্কুলগুলিতেও প্রায়শই খেলাধুলার জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধার অভাব রয়েছে এবং অভিভাবকরা পরীক্ষা ও প্রতিযোগিতার চাপে খেলাধুলাকে খুব কমই অগ্রাধিকার দেন। অবকাঠামো, নীতি এবং বোঝাপড়া ছাড়া, পড়াশোনার সাথে খেলাধুলার ভারসাম্যের আহ্বান অর্থহীন হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ
আমরা যদি এই বিষয়ে গুরুতর হতে চাই, যা হওয়া উচিত, তবে সব স্কুলকে সঠিক খেলার মাঠ এবং প্রশিক্ষিত শিক্ষক দিয়ে সজ্জিত করতে হবে যারা দৈনন্দিন রুটিনে খেলাধুলাকে একীভূত করতে পারেন। শহর পরিকল্পনায়ও পার্ক ও মাঠ সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণ করতে হবে, যাতে শিশুদের খেলার জন্য নিরাপদ জায়গা থাকে।
অবকাঠামোর বাইরেও, আমাদের সমাজে মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন, যেখানে শিক্ষক, অভিভাবক এবং বৃহত্তর সম্প্রদায় খেলাধুলাকে বিভ্রান্তি নয়, বরং বিকাশের একটি অপরিহার্য অংশ হিসেবে দেখতে পারেন।
খেলাধুলার গুরুত্ব
খেলাধুলা ঐতিহাসিকভাবে স্থিতিস্থাপকতা তৈরি করেছে, অন্তর্ভুক্তি বাড়িয়েছে এবং সম্প্রদায়কে শক্তিশালী করেছে। শিশুদের খেলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা তাদের বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ থেকে বঞ্চিত করার সমান।
প্রধানমন্ত্রীর কথার সাথে তাই কাজের মিল থাকতে হবে। আমাদের বিনোদনের জায়গা রক্ষা করে এমন নীতি, স্কুলে খেলাধুলা আনার জন্য বিনিয়োগ এবং পড়াশোনার মতো খেলাধুলাকেও মূল্য দেয় এমন সাংস্কৃতিক পরিবর্তন প্রয়োজন। এগুলো ছাড়া, খেলাধুলা ও পড়াশোনার ভারসাম্য একটি দূরের স্বপ্ন হয়ে থাকবে।



