শিক্ষামন্ত্রী এ এন এম এহসানুল হক মিলন বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বলেছেন, গত কিছু সময়ের অস্থিরতার পর দেশের শিক্ষাখেত্রে শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা ও গুণগত মান ফিরিয়ে আনতে সরকার ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য
সংসদে কুমিল্লা-৯ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবানে মিলন বলেন, সাম্প্রতিক অস্থিরতার কারণে শিক্ষা কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হলেও সরকার ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও শিক্ষাগত পদক্ষেপ নিয়েছে, যাতে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসে।
তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা পুনরায় শুরু করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যাতে একটি সুশৃঙ্খল শিক্ষা পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।
গুণগত মান উন্নয়ন পরিকল্পনা
শিক্ষামন্ত্রী জানান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মাধ্যমে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই পরিকল্পনার আওতায় 'এক শিক্ষক এক ট্যাব', বিনামূল্যে ওয়াইফাই, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের মতো প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যা শিক্ষাকে আধুনিক ও কার্যকর করতে সাহায্য করবে।
পাঠ্যক্রম ও মূল্যায়ন সংস্কার
পাঠ্যক্রম ও মূল্যায়ন পদ্ধতি সংস্কারের জন্য জাতীয় পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সঙ্গে সমন্বয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মিলন। এর মধ্যে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, বৃত্তিমূলক শিক্ষার সম্প্রসারণ এবং নীতিশিক্ষার প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞান, দক্ষতা ও নৈতিক মূল্যবোধ সৃষ্টি হয়।
সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধ প্রচার
সামাজিক, মানবিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রচারের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রম, তথ্যচিত্র ও কুইজভিত্তিক পুরস্কার কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে, যা সচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে সহায়ক হবে এবং একটি ইতিবাচক শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি করবে।
বিসিএস শিক্ষা একাডেমি প্রতিষ্ঠা
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে একটি বিসিএস শিক্ষা একাডেমি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে, যা শিক্ষা প্রশাসনে দক্ষতা ও গতিশীলতা বৃদ্ধি করবে।
'নেক্সটজেন সেকেন্ডারি এডুকেশন' প্রকল্প
এছাড়া 'নেক্সটজেন সেকেন্ডারি এডুকেশন' প্রকল্পের আওতায় সরকার আধুনিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চালু করার পরিকল্পনা করছে, যার মধ্যে রয়েছে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, রিয়েল-টাইম শিখন পর্যবেক্ষণ, একীভূত মূল্যায়ন ব্যবস্থা, উপস্থিতি ট্র্যাকিং ও শিক্ষক কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন। প্রকল্প প্রস্তাবটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই উদ্যোগগুলো শিক্ষাখেত্রে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে এবং দেশজুড়ে একটি শৃঙ্খল, আধুনিক ও মানসম্পন্ন শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করবে। ভবিষ্যতেও এসব প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।



