মাউশির জরুরি নির্দেশ: এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের এপ্রিলের বেতন ইএফটিতে পাঠাতে ২৪ এপ্রিলের মধ্যে অনলাইনে বিল দাখিল
দেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (এমপিওভুক্ত) শিক্ষক ও কর্মচারীদের এপ্রিল মাসের এমপিও’র অর্থ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) মাধ্যমে পাঠানোর লক্ষ্যে আগামী ২৪ এপ্রিলের মধ্যে অনলাইনে বিল দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল স্বাক্ষরিত এক আদেশে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানকে এই জরুরি নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
অনলাইন বিল সাবমিটের নতুন ব্যবস্থা
আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শিক্ষক ও কর্মচারীদের এমপিও’র অর্থ সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। এই লক্ষ্যে গত আগস্ট-২০২৫ থেকে অনলাইনে বিল সাবমিটের একটি কার্যকর ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠান প্রধানদেরকে তাদের ইএমআইএস সিস্টেমের নির্দিষ্ট আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ‘এমপিও-ইএফটি’ মডিউলের মাধ্যমে এই বিল দাখিল করতে হবে।
শিক্ষক-কর্মচারীদের বিধি মোতাবেক প্রাপ্য অর্থ সঠিকভাবে নির্ধারণ করে এই বিল সাবমিট করতে হবে। মাউশি সতর্ক করে দিয়েছে যে, ইএফটি-তে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধানের দেওয়া তথ্যই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। ভুল তথ্যের কারণে কোনো জটিলতা তৈরি হলে বা অতিরিক্ত অর্থ প্রেরিত হলে, তার সম্পূর্ণ দায়ভার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানকে বহন করতে হবে।
বিশেষ ক্ষেত্রে বিল দাখিলের নিয়ম
আদেশে আরও বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী মৃত্যুবরণ করলে, পদত্যাগ করলে কিংবা সাময়িক বরখাস্ত বা অনুমোদনহীন অনুপস্থিতির কারণে বেতন কর্তনের প্রয়োজন হলে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে বিল সাবমিট অপশনে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
এ ছাড়া, যারা অবসর গ্রহণ করেছেন বা অন্য কোনো কারণে নিয়মিত বেতন প্রাপ্য নন কিন্তু বকেয়া অনুমোদিত হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ‘আংশিক পেমেন্ট’ অপশন ব্যবহার করতে হবে। এই ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে যে, সকল প্রাপক তাদের প্রাপ্য অর্থ সঠিক সময়ে ও নির্ভুলভাবে পেতে পারেন।
তথ্য যাচাই ও আপডেট প্রক্রিয়া
মাউশি জানিয়েছে যে, শুধুমাত্র ‘আইবাস++’ পদ্ধতিতে যাচাইকৃত ও সঠিক তথ্য সম্বলিত জনবলের তথ্যই বর্তমানে বিল সাবমিট অপশনে যুক্ত করা হয়েছে। যাদের তথ্য এখনও ভুল বা অসম্পূর্ণ আছে, তাদের তথ্য যাচাই সাপেক্ষে পরবর্তীতে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হবে।
এই অনলাইন বিল সাবমিট ব্যবস্থা শিক্ষক ও কর্মচারীদের সময়মতো বেতন প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে এবং অর্থ বিতরণ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও দক্ষ করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।



