যশোরে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জোরালো দাবি সংসদ সদস্য ফরিদের
যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ যশোরে একটি বিশেষায়িত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এই দাবি উত্থাপন করেন।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার অভাব
তিনি বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৃষি অঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও এখানে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য কোনো বিশেষায়িত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নেই। যশোর শুধুমাত্র একটি জেলা নয়, এটি বাংলাদেশের ফুলের রাজধানী হিসেবেও পরিচিত। দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ ফুল গদখালি অঞ্চল থেকে সরবরাহ করা হয়।
যশোর সারা বছর ধরে সবজি, ধান ও পাট উৎপাদনের মাধ্যমে জাতীয় কৃষিখাতে একটি বিশাল অবদান রাখছে। এখানকার কৃষকরা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
গবেষণা কেন্দ্রের অভাব ও কৃষি চ্যালেঞ্জ
এমপি ফরিদ আক্ষেপ করে বলেন, এতসব সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য নিয়ে গভীর গবেষণার জন্য এখনো পর্যন্ত এই অঞ্চলে কোনো কার্যকর গবেষণা কেন্দ্র গড়ে ওঠেনি। ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা, মাটির লবণাক্ততা এবং ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এই এলাকার কৃষি খাতের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
বেনাপোল বন্দর ও রপ্তানির সুযোগ
তিনি আরও উল্লেখ করেন, যশোরের দোরগোড়ায় অবস্থিত বেনাপোল স্থলবন্দরের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানির জন্য বিরাট সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখানে যদি একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে উৎপাদিত কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানি করা অনেক সহজ হবে।
একইসাথে এই অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা কৃষিবিদ ও সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠবে এবং নতুন নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র সৃষ্টি হবে।
চৌগাছায় অব্যবহৃত জমির সুবিধা
সংসদ সদস্য ফরিদ জানান, চৌগাছা উপজেলায় একটি গবেষণা কেন্দ্রের জন্য বরাদ্দকৃত ১৭৩ একর জমি বর্তমানে সম্পূর্ণ অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এই জমি সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে খুব সহজেই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব। এতে করে সময় ও অর্থ—উভয় দিক থেকেই উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় হবে।
দূরবর্তী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা
তিনি বলেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত। যশোর থেকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরত্ব প্রায় ৮১ কিলোমিটার এবং রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরত্ব প্রায় ২০০ কিলোমিটার। দুঃখজনকভাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৩ কোটি মানুষের জন্য কোনো কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নেই।
প্রস্তাবনা ও সরকারি পদক্ষেপ
এমপি ফরিদ উল্লেখ করেন, যশোরের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ইতোমধ্যে এই বিষয়ে একটি ডেমি-অফিসিয়াল (ডিও) চিঠি প্রদান করেছেন। এছাড়াও গত নভেম্বর মাসে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে যশোরে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবনা ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রীর কাছে জোরালো আবেদন
শেষে তিনি শিক্ষামন্ত্রীর কাছে অবিলম্বে যশোরে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সকল প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো দাবি জানান। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে তা শুধুমাত্র যশোর নয়, বরং পুরো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য একটি কৃষি বিপ্লবের সূতিকাগার হিসেবে কাজ করবে।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে অঞ্চলের কৃষি গবেষণা, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।



