দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং ইউএন উইমেন বাংলাদেশ যৌথভাবে নতুন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে দেশের পাঁচটি নির্বাচিত পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সঙ্গে ইউএন উইমেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়। প্রতিনিধি দলে ছিলেন ইউএন উইমেন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম এনালিস্ট শ্রবণা দত্ত ও তোসিবা কাশেম। সভায় ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগের পরিচালক জেসমিন পারভীনও উপস্থিত ছিলেন।
প্রকল্পের বিবরণ
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘বাংলাদেশের জনপরিসর, কর্মক্ষেত্র ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা নিরসন’ প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহিংসতামুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে আগামী জুনের শেষ সপ্তাহ বা জুলাইয়ের শুরুতে ইউজিসি ও ইউএন উইমেন বাংলাদেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নে একটি কার্যকরী ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হবে। পাশাপাশি কার্যক্রমের অগ্রগতি মূল্যায়নে নিয়মিত ত্রৈমাসিক সভার আয়োজন করা হবে।
গবেষণা ও তথ্য সংগ্রহ
সভায় ইউএন উইমেন প্রতিনিধিরা জানান, প্রকল্পের আওতায় একটি বেসলাইন স্টাডি পরিচালনা করা হবে, যার দায়িত্বে থাকবে ইউএন উইমেন। এ জন্য একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। আগামী জুলাই-আগস্টের মধ্যে তথ্য সংগ্রহ শেষে বেসলাইন তথ্য যাচাই ও চূড়ান্ত করা হবে।
সক্ষমতা বৃদ্ধি ও পর্যবেক্ষণ
ইউজিসি জানায়, বিশ্ববিদ্যালয় এবং যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটির সদস্যদের সক্ষমতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। এছাড়া হাইকোর্টের ২০০৯ সালের নির্দেশনা বা প্রাসঙ্গিক নতুন আইন বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণের জন্য একটি অনলাইন টুল তৈরি এবং জেন্ডার পলিসি ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়নে কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে।
ইউজিসি চেয়ারমনের বক্তব্য
ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, নারী শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নিরাপদ, সম্মানজনক ও সহায়ক ক্যাম্পাস পরিবেশ নিশ্চিত করতে ইউজিসি বদ্ধপরিকর। তিনি এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও ইতিবাচক আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি যেন কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা নিরসনে গৃহীত কার্যক্রম বাস্তবায়নে ইউজিসি প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।



