যুক্তি, বাগ্মিতা ও নেতৃত্ব বিকাশের লক্ষ্যে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুইদিনব্যাপী ‘চতুর্থ এসডিএস ডিবেট ফেস্টিভাল অ্যান্ড ওয়ার্কশপ ২০২৬’। শনিবার (২৩ মে) উৎসবের সমাপনী দিনে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেয় ২৭০ জন শিক্ষার্থী। অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থীর হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয়।
আয়োজক ও সহযোগী সংস্থা
সোনাহার বিতর্ক পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ উৎসবে সহযোগিতা ও তত্ত্বাবধানে ছিল ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশন বাংলাদেশ (এনডিএফ বিডি), স্টুডেন্ট ফোর্স বিডি এবং গোল্ডেন রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড মডেল মাদ্রাসা। সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সোনাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সোনাহার বিতর্ক পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা রাজ্জাক দুলাল।
প্রশিক্ষক ও অংশগ্রহণকারীরা
কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে অংশ নেন এনডিএফ বিডির জয়েন্ট সেক্রেটারি নাহিদুর রহমান দুর্জয়, বাংলাদেশ বেতারের সংবাদ পাঠক ও জাতীয় পর্যায়ের চ্যাম্পিয়ন বিতার্কিক জয় লালা, সোনাহার ডিবেটিং সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ও উৎসবের আহ্বায়ক আরিফ বিল্লাহ, নীলফামারী সরকারি কলেজের সাইফুল হোসেন আনোয়ার, দিনাজপুর সরকারি কলেজের সেলিম ইসলাম আশিক, সোনাহার বিতর্ক পরিষদের সভাপতি মো. মাহাবুল ইসলাম, রংপুর সরকারি কলেজের আহনাফ তাজওয়ার রিয়ান ও বীথি রায়। এছাড়াও পূর্বের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন গুঞ্জন রায়, টুম্পা সরকার, রুবেল ইসলাম, ইমরান হোসেন, মিজানুর হক, নীরব রায়, বাধন রায়, সৌরভ ইসলাম, আবু আহাদ, অদ্রিতা রায়, সুমাইয়া আক্তার, ওরিন মুত্তাকী সহ সিনিয়র বিতার্কিকরা।
কর্মশালার কার্যক্রম
দিনব্যাপী কর্মশালায় সংসদীয় বিতর্ক, রম্য বিতর্ক, শুদ্ধ উচ্চারণ, নিউজ প্রেজেন্টেশন ও র্যাম্প শোসহ বিভিন্ন সেশনের আয়োজন করা হয়। পরে অংশগ্রহণকারী ও বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
বক্তাদের মতামত
অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা রাজ্জাক দুলাল বলেন, বিতর্কচর্চা শিক্ষার্থীদের যুক্তিনির্ভর ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। এর মাধ্যমে নেতৃত্বগুণ ও বাস্তব জীবনে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতাও বাড়ে। নতুন প্রজন্মকে মানবিক ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এনডিএফ বিডির জয়েন্ট সেক্রেটারি নাহিদুর রহমান দুর্জয় বলেন, বিতর্ক কেবল প্রতিযোগিতা নয়, এটি চিন্তা ও বিশ্লেষণের একটি শিল্প। একজন শিক্ষার্থী যখন যুক্তি দিয়ে নিজের মত প্রকাশ করতে শেখে, তখন সে সমাজ ও রাষ্ট্র সম্পর্কে আরও সচেতন হয়ে ওঠে। পঞ্চগড়ের মতো অঞ্চলে এত বড় পরিসরে বিতর্ক উৎসব আয়োজন সত্যিই আশাব্যঞ্জক।
গোবিন্দ আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ইব্রাহিম খান বলেন, এ আয়োজনের মাধ্যমে বিতর্কচর্চার গুরুত্ব আরও ভালোভাবে বুঝতে পেরেছি। অংশগ্রহণকারীদের উপস্থাপনা, শেখার আগ্রহ ও সৃজনশীলতা আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে।
সোনাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আমেনা আক্তার বলেন, বিতর্ক মানুষকে শুধু কথা বলতে শেখায় না, বরং অন্যের মতামতকে সম্মান করতে এবং যৌক্তিকভাবে নিজের অবস্থান তুলে ধরতেও সহায়তা করে। কর্মশালার প্রতিটি সেশন ছিল প্রাণবন্ত ও শিক্ষণীয়।
সোনাহার বিতর্ক পরিষদের সভাপতি মো. মাহাবুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের যুক্তিবোধ, আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে বিতর্কচর্চার বিকল্প নেই। তরুণদের গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
প্রথম দিনের কার্যক্রম
আয়োজকরা জানান, উৎসবের প্রথম দিনে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন এনডিএফ বিডির ডিরেক্টর জেনারেল ও রেক্টর লায়ন এম আলমগীর। তিনি ট্রেইনার হিসেবেও প্রশিক্ষণ দেন। এছাড়া সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক ও রংপুর জোন প্রধান মো. শিয়াবুজ্জামান চঞ্চল এবং খুলনা জোনের অ্যাক্টিং ডিরেক্টর তরিকুল ইসলামও প্রশিক্ষক হিসেবে অংশ নেন।



