এসএসসি অর্থনীতিতে ভালো নম্বর পাওয়ার সহজ উপায়
এসএসসি অর্থনীতিতে ভালো নম্বর পাওয়ার উপায়

পরামর্শপ্রিয় পরীক্ষার্থী, অর্থনীতিতে ভালো নম্বর পাওয়া বেশ সহজ। সারা বছর তোমরা মনোযোগ দিয়ে পড়েছ, প্রস্তুতিও নিয়েছ সঠিকভাবে। তাই এ বিষয়ে বেশি নম্বর পাওয়া তোমার জন্য বেশ সহজ। এ বছর পুরো বইয়ের সব অধ্যায় থেকে প্রশ্ন আসবে।

নম্বর বিভাজন দেখো

১. অর্থনীতিতে পাঠ্যবই থেকে বহুনির্বাচনি অংশে মোট ৩০টি প্রশ্ন থেকে সব কটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। নম্বর থাকবে ১×৩০ অর্থাৎ ৩০ নম্বর। প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য বরাদ্দ থাকবে ১ নম্বর করে।

২. সংক্ষিপ্ত অংশে প্রশ্ন থাকবে ১৫টি। যেকোনো ১০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। নম্বর থাকবে ২×১০ অর্থাৎ ২০ নম্বর।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

৩. সৃজনশীল অংশে প্রশ্ন থাকবে ৮টি। যেকোনো ৫টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। নম্বর থাকবে ৫×১০ অর্থাৎ ৫০ নম্বর।

বহুনির্বাচনি অংশ

বহুনির্বাচনিতে ভালো করতে হলে পুরো বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও তত্ত্বগুলো মনে রাখবে। সারা বছর পাঠ্যবইয়ের পাতায় পাতায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলোর নিচে দাগ দিয়েছ, সেগুলোয় ভালোভাবে চোখ বুলিয়ে নেবে, যাতে করে খুব সহজে সে তথ্যগুলো নজরে পড়ে।

সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন

সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্নে ভালো করতে অধ্যায়গুলো ভালোভাবে রিভিশন দেবে। প্রতিটি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের উত্তর যথাযথভাবে লিখবে। প্রশ্নে বলতে কী বোঝো, কাকে বলে, সংজ্ঞা লেখো– তা ঠিক করে লিখবে। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরে নম্বর ২ করে, তাই উত্তর ভালোভাবে লিখতে হবে।

সৃজনশীল অংশ

সৃজনশীল অংশের প্রশ্নের উত্তর অবশ্যই চার ধাপে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে লিখবে। প্রতিটি প্রশ্ন জ্ঞানমূলক, অনুধাবন মূলক, প্রয়োগমূলক ও উচ্চতর দক্ষতা অংশকে প্যারা করে লিখবে। এতে পরীক্ষক খুব সহজেই তোমার লেখা উত্তর বুঝতে পারবেন। তবে উত্তর লেখার সময় খেয়াল রাখবে, যাতে নির্দিষ্ট সময়ে লেখা শেষ করতে পারো। উত্তরে কোনো ধরনের অপ্রাসঙ্গিক কিছু লিখবে না। অনেক পরীক্ষার্থী অযথাই অপ্রাসঙ্গিক কিছু লিখে খাতা ভরিয়ে রাখে। এটা কখনোই করবে না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যে অধ্যায় পড়বে

দ্বিতীয় অধ্যায়ে অর্থনৈতিক সম্পদ, সব প্রাকৃতিক সম্পদ, স্থায়ী ও অস্থায়ী ভোগপণ্য, আয় বিনিয়োগ বিভিন্ন দরকারি বিষয়, তা ভালোভাবে পড়বে। এ অধ্যায় থেকে বহুনির্বাচনি ও সৃজনশীল দুই ধরনের প্রশ্ন পরীক্ষায় আসবে। এটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

তৃতীয় অধ্যায়ে উপযোগ, চাহিদা, যোগান ও ভারসাম্য বিষয়ে ভালো ধারণা থাকতে হবে।

ষষ্ঠ অধ্যায়ে মোট দেশজ উৎপাদন, মোট জাতীয় আয়, নিট জাতীয় আয় বিষয়গুলো একই ধরনের। অনেকে এ অধ্যায়ে প্রশ্ন গুলিয়ে ফেলে। তাই এগুলো বুঝে পড়বে।

সপ্তম অধ্যায়ের অর্থ ও ব্যাংক ব্যবস্থা অধ্যায়ে বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্যিক ব্যাংক, নিকাশঘর, রেমিট্যান্সের বিষয়ে ভালোভাবে পড়বে। দারিদ্র্যের দৃষ্টান্ত, সামাজিক ব্যয়, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, মৌসুমি বেকারত্ব ও এনজি সম্পর্কে বিস্তারিত পড়বে।

দশম অধ্যায়ের বাংলাদেশের সরকারের অর্থ ব্যবস্থা অধ্যায়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তা ছাড়া কর রাজস্ব, মূল্য সংযোজন কর, আয় ও মুনাফার ওপর কর, করবহির্ভূত রাজস্ব নিয়ে পরিষ্কার ধারণা রাখবে। সুষম বাজেট, অসুষম বাজেট, উদ্বৃত্ত বাজেট, ঘাটতি বাজেট অংশ ভালোভাবে পড়বে।

সূত্র মনে রেখো

সারা পাঠ্য বইয়ের মধ্যে অনেক অর্থনীতিবিদের নাম, বইয়ের নাম, সূত্র, সাল, পরিমাণ ইত্যাদি রয়েছে। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর লেখার ক্ষেত্রে এসব তথ্য তোমার দরকার পড়বেই। তাই এসব যেন ভুল না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখবে।

মনে রেখো, প্রায় প্রতিটি অধ্যায়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র রয়েছে। সূত্রগুলো মনে রাখবে, বুঝে পড়বে। যেমন: গড় উৎপাদন = মোট উৎপাদন / মোট শ্রম উপকরণ; S= y-c; মাথাপিছু জিডিপি = কোনো নির্দিষ্ট বছরে মোট দেশজ উৎপাদন / ওই বছরের মধ্য সময়ের মোট সংখ্যা; সুষম বাজেট = মোট আয়–মোট ব্যয় = 0 হয়।

লেখা শেষে রিভিশন দাও

পরীক্ষার খাতায় লেখা শেষে রিভিশন দিতে ভুলবে না। কারণ, কোনো প্রশ্নের উত্তর লেখার সময় তাড়াতাড়ির কারণে কিছু ভুল হতে পারে, রিভিশন দিলে সে ভুল সহজেই চোখে পড়বে। আর ঠিক করাটা সহজ হবে।

মিজানুর রহমান, শিক্ষক
ধানমন্ডি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়, ঢাকা