মাউশির মহাপরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বে অধ্যাপক সোহেল
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)-এর মহাপরিচালকের (ডিজি) অতিরিক্ত দায়িত্ব পেয়েছেন অধ্যাপক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
দায়িত্ব ও পদবির পরিবর্তন
অধ্যাপক সোহেল বর্তমানে মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাশাপাশি তিনি শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের একান্ত সচিব হিসেবেও কাজ করতেন। তবে মহাপরিচালকের দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি একান্ত সচিবের পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। শিক্ষার এই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে নিয়মিত মহাপরিচালক না থাকায় তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আর্থিক ক্ষমতা ও আইনি ভিত্তি
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নতুন মহাপরিচালক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত ট্রেজারি ও সাবসিডিয়ারি আইনের ভলিউম-১ এর বিধি ৬৬ অনুযায়ী অধ্যাপক সোহেলকে মহাপরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আর্থিক ক্ষমতাও প্রদান করা হয়েছে। এটি দপ্তরের কার্যক্রম সচল রাখতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পূর্ববর্তী দায়িত্বের ইতিহাস
এর আগে পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) বি এম আবদুল হান্নান অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে মহাপরিচালকের কাজ চালিয়ে আসছিলেন। তবে গত ৯ এপ্রিল জারি করা প্রজ্ঞাপনে তাকে সরিয়ে সরকারি তিতুমীর কলেজে সংযুক্ত করা হয়। এই পরিবর্তন মাউশির নেতৃত্বে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
মাউশিতে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা
উল্লেখ্য, গত ছয় মাস ধরে মাউশিতে নিয়মিত মহাপরিচালকের পদ ফাকা রয়েছে। এ পদে দীর্ঘদিন ধরে অস্থিরতা বিরাজ করছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গত বছরের ১৪ অক্টোবর তৎকালীন মহাপরিচালক অধ্যাপক মুহাম্মদ আজাদ খানকে অপসারণ করে ওএসডি করা হয়। এর আগে একই বছরে নিয়োগ পাওয়া অধ্যাপক এহতেসাম উল হককে এক মাসের মধ্যে সরিয়ে দেওয়া হয়। এই পদে ঘন ঘন পরিবর্তন শিক্ষা খাতের স্থিতিশীলতার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।
অধ্যাপক সোহেলের নতুন দায়িত্ব মাউশির কার্যক্রমে গতি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্ত মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে।



