শিক্ষার উন্নয়নে শিক্ষকদের ক্ষমতায়ন ও মূল্যায়নের ওপর জোর দিলেন শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কেবল মন্ত্রী পরিবর্তন করলেই শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন সম্ভব নয়। বরং যারা মানুষ গড়ার প্রকৃত কারিগর, সেই শিক্ষকদের যথাযথ মূল্যায়ন ও ক্ষমতায়নের মাধ্যমেই শিক্ষার প্রকৃত পরিবর্তন আনা যাবে। তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থাকে উন্নত করতে হলে সবার আগে শিক্ষকদের গুরুত্ব দিতে হবে, কারণ তারা জাতির ভবিষ্যৎ গঠনের মূল স্তম্ভ।
পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে স্বচ্ছতা আনতে শিক্ষা আইন সংশোধনের ঘোষণা
সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে যশোর পিটিআই মিলনায়তনে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার কেন্দ্রসচিবদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী মিলন গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে স্বচ্ছতা আনতে ১৯৮০ সালের শিক্ষা আইনের সংশোধন করা হবে। নতুন ব্যবস্থায়, পরীক্ষকদের মূল্যায়িত খাতা থেকে ‘র্যান্ডম স্যাম্পলিং’ বা নমুনা সংগ্রহ করে পুনরায় যাচাই করা হবে। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো শিক্ষকরা সঠিকভাবে নম্বর দিচ্ছেন কি না, তা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি, নতুন ও দক্ষ পরীক্ষক তৈরিতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে, যা মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে আরও পেশাদার করে তুলবে।
ডিজিটাল জালিয়াতি প্রতিরোধে শিক্ষক ও প্রশাসনকে সজাগ হওয়ার আহ্বান
শিক্ষামন্ত্রী মিলন সাবেক সরকারের সমালোচনা করে বলেন, অতীতে অনেকেই নকলপ্রবণতাকে প্রশ্রয় দিয়েছেন, কিন্তু ২০০১ সালের পর সরকার কঠোরভাবে নকল নির্মূল করতে সক্ষম হয়েছে। তবে, করোনা-পরবর্তী সময়ে নকলের ধরন পাল্টে ‘ডিজিটাল জালিয়াতি’ শুরু হয়েছে বলে তিনি সতর্ক করেন। এই নতুন ধরনের জালিয়াতি প্রতিরোধে শিক্ষক ও প্রশাসনকে আরও সজাগ হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিকতা ও সততা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং ডিজিটাল যুগে এর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে স্থায়ী আইডি নম্বরের পরিকল্পনা
শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি বিশেষ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী জানান, উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও জন্মনিবন্ধনের সাথে সাথে একটি স্থায়ী আইডি নম্বর দেয়া হবে। এই একটি আইডি দিয়েই শিক্ষা, পুলিশি ভেরিফিকেশন, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং মৃত্যু পর্যন্ত সব সেবা নিশ্চিত হবে। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ শিক্ষাব্যবস্থাপনায় বিপ্লব ঘটাবে এবং শিক্ষার্থীদের ট্র্যাকিং ও সহায়তা প্রক্রিয়াকে সহজতর করবে।
শিক্ষকদের নিজেদের প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান
শিক্ষামন্ত্রী মিলন শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘শিক্ষকতা দিয়ে সদকায়ে জারিয়া অর্জন সম্ভব, কিন্তু শিক্ষকরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন না। অধিকাংশ শিক্ষক নিজের স্কুলে নিজের সন্তানদের পড়ান না।’ তিনি শিক্ষকদের নিজেদের প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা রাখার এবং শিক্ষার্থীদের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের উন্নয়নের প্রধান ক্ষেত্র, এবং তিনি জবাবদিহির কাঠগড়ায় দাঁড়াতে চান। শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে একটি আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলাই তার লক্ষ্য।
মন্ত্রী বলেন, ‘অন্য দশটি মন্ত্রণালয়ের চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আলাদা, কারণ এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভিত্তি তৈরি করে।’ তিনি শিক্ষকদের সাথে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন, এবং শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে সবাইকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানান।



