দেশের ২৬ হাজার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ৬০ হাজার শিক্ষক পদ শূন্য, মান নিয়ে উদ্বেগ
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ৬০ হাজার শিক্ষক পদ শূন্য, মান নিয়ে উদ্বেগ

দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকটের তীব্রতা

সারা দেশের ২৬ হাজার বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৬০ হাজারের বেশি শিক্ষকের পদ প্রায় দেড় যুগ যাবত শূন্য রয়েছে। অথচ দেশের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই এসব প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে। এই দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষকসংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা শিক্ষার গুণগত মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জরুরি পদক্ষেপ

শিক্ষার স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনতে সারা দেশের বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষে পাঠদান বাড়ানোর লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অবসরপ্রাপ্ত ও শারীরিকভাবে সক্ষম শিক্ষকদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বেসরকারি মাধ্যমিক-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব শিরীন আক্তার স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক স্বল্পতা এবং এনটিআরসিএ কর্তৃক শিক্ষক নিয়োগে বিলম্বের কারণে শ্রেণীকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলাভিত্তিক অবসরপ্রাপ্ত ও শারীরিকভাবে সক্ষম শিক্ষকদের সমন্বয়ে একটি ‘অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক পুল’ গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুল গঠন ও নিয়োগ প্রক্রিয়া

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে জেলা প্রশাসকদের উপজেলাভিত্তিক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক পুল গঠনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরামর্শক্রমে সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি/অ্যাডহক কমিটির অনুমোদন নিয়ে পুল গঠন করতে হবে।
  • প্রয়োজনের নিরিখে সাময়িকভাবে পুল থেকে শিক্ষক নিয়োগ করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
  • প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিলের অত্যাবশ্যকীয় খাত থেকে সম্মানী ব্যয় নির্বাহের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশনা প্রদানের অনুরোধ করা হয়েছে।

শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য

শিক্ষকসংকট ও যোগ্য শিক্ষকের অভাবে বাংলাদেশে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত মান নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। সাম্প্রতিক গবেষণা ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এইচএসসি পাশ শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতা আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় অনেকটাই নিচে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের এইচএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা গড়ে আন্তর্জাতিকভাবে সপ্তম শ্রেণির সমতুল্য জ্ঞান ও সক্ষমতা অর্জন করছেন।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে শিক্ষার ঘাটতি

বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে শিক্ষার গুণগত দুর্বলতার চিত্র স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী:

  1. একটি শিশু ১৮ বছর বয়সে সাধারণত ১১ বছর মেয়াদি আনুষ্ঠানিক শিক্ষা সম্পন্ন করে, কিন্তু বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা শেখার মান বিবেচনায় মাত্র ৬.৫ বছরের সমতুল্য শিক্ষা অর্জন করতে সক্ষম হচ্ছে।
  2. এতে শিক্ষাবর্ষ অনুযায়ী বাংলাদেশ অন্তত ৪.৫ বছর পিছিয়ে আছে, যা প্রায় সাড়ে চার বছরের মানঘাটতি নির্দেশ করে।
  3. চার বছর বয়সে স্কুলে ভর্তি একটি শিশুর ১৮ বছর বয়সে ১০.২ বছর শিক্ষা সম্পন্ন করার কথা, কিন্তু গুণমান বিবেচনায় সে প্রকৃত অর্থে মাত্র ছয় বছর সমমানের শেখা অর্জন করছে।

শিক্ষা প্রশাসন এই ঘাটতি সম্পর্কে অবগত এবং তারা দাবি করছেন যে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে নানা প্রতিকূলতা রয়েছে। তবে শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ, বেতন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। তারা মনে করেন, হঠাৎ করেই শিক্ষার সামগ্রিক মান উন্নয়ন সম্ভব নয় এবং এজন্য পর্যাপ্ত সময় প্রয়োজন।