শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে বিএনপির ইশতেহার বাস্তবায়নে ১৮০ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক সভায় বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬ বাস্তবায়নে ১৮০ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। সভায় শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক, কর্মমুখী ও সময়োপযোগী করে গড়ে তোলার অগ্রাধিকারভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।
শিক্ষা খাতে যুগান্তকারী পদক্ষেপের পরিকল্পনা
শিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, আগামী ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে মুখস্থনির্ভরতা থেকে বের করে এনে সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা ও বাস্তব দক্ষতা উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
তৃতীয় ভাষা শিক্ষা ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ
সভায় শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে মাধ্যমিক পর্যায় থেকে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালুর পাশাপাশি নিম্নলিখিত উদ্যোগগুলোর পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়:
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ
- পর্যায়ক্রমে মিড-ডে মিল চালু করা
- শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা প্রবর্তন
- প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণ ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন
- ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন
জীবনমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য
বিএনপির শিক্ষানীতির মূল লক্ষ্য হিসেবে জীবনমুখী, কর্মমুখী ও উৎপাদনমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। এ লক্ষ্যে শিক্ষা খাতে পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সভায় দেশের জনসংখ্যাগত সুবিধা তথা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড এবং ভবিষ্যতের লংজিভিটি ডিভিডেন্ডকে কাজে লাগাতে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়।
কারিগরি শিক্ষা ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য উদ্যোগ
সভায় সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা এবং শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও নৈতিক শিক্ষায় সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা উল্লেখ করা হয়। এছাড়াও, শিক্ষায় বৈষম্য দূরীকরণ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য উপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা, সর্বজনীন প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষা এবং ডিজিটাল এডু-আইডি চালুর বিষয়ে আলোচনা করা হয়। মাদ্রাসাশিক্ষাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে আইটি, বিজ্ঞান ও পেশাভিত্তিক শিক্ষার অন্তর্ভুক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় সংস্কার
শিক্ষা মন্ত্রী বলেন, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প খাতের যৌথ গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা এবং উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সংস্কার গ্রহণ করা হবে। কর্মক্ষম যুব জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্মত শিক্ষা, দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর জোর দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সুস্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।
সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও নীতিনির্ধারকেরা উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।



