এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের এপ্রিলের বেতন: মাউশির জরুরি নির্দেশনা ও অনলাইন বিল দাখিলের প্রক্রিয়া
দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য এপ্রিল মাসের বেতন বা এমপিওর অর্থ সরাসরি ব্যাংক হিসাবে (ইএফটি) পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। এই প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করতে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানকে আগামী ২৪ এপ্রিলের মধ্যে অনলাইনে বিল দাখিল করার জন্য জরুরি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরাসরি ব্যাংক হিসাবে বেতন প্রদানের নতুন ব্যবস্থা
অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল স্বাক্ষরিত এক আদেশে জানানো হয়েছে, শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন এখন থেকে সরাসরি তাদের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। এই প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য সব প্রতিষ্ঠান প্রধানকে তাদের নির্দিষ্ট আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ইএমআইএস সিস্টেমের ‘এমপিও-ইএফটি’ মডিউলের মাধ্যমে বিল সাবমিট করতে হবে।
প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা
মাউশির আদেশে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা উল্লেখ করা হয়েছে:
- সঠিক তথ্য প্রদান: শিক্ষক-কর্মচারীদের বিধি মোতাবেক প্রাপ্য অর্থ সঠিকভাবে নির্ধারণ করে বিল জমা দিতে হবে।
- বেতন কর্তন সংক্রান্ত: কোনো শিক্ষক-কর্মচারী মৃত্যুবরণ করলে, পদত্যাগ করলে, সাময়িকভাবে বরখাস্ত হলে বা অনুমোদনহীন অনুপস্থিত থাকলে বিল সাবমিট অপশনে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
- আংশিক পেমেন্ট: যারা অবসর বা অন্য কারণে নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন না, কিন্তু বকেয়া অনুমোদিত হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ‘আংশিক পেমেন্ট’ অপশন ব্যবহার করতে হবে।
- তথ্যের দায়ভার: প্রতিষ্ঠান প্রধানের দেওয়া তথ্যই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। ভুল তথ্যের কারণে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান বা অন্য কোনো জটিলতা তৈরি হলে এর দায়ভার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানকে বহন করতে হবে।
তথ্য যাচাই ও অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া
মাউশি স্পষ্ট করেছে যে, শুধু ‘আইবাস++’ পদ্ধতিতে যাচাইকৃত এবং সঠিক তথ্য সম্বলিত জনবলের তথ্যই বিল সাবমিট অপশনে যুক্ত করা হয়েছে। যাদের তথ্যে এখনো ভুল আছে, তাদের তথ্য যাচাই সাপেক্ষে পরবর্তীতে এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এই পদক্ষেপটি শিক্ষকদের বেতন প্রদান প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও দ্রুততর করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এই নতুন ব্যবস্থা বাস্তবায়নে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। মাউশি আশা করছে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন সময়মতো ও নির্বিঘ্নে প্রদান করা সম্ভব হবে।



