এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উৎসব ভাতা বৃদ্ধি: নতুন সরকারের শিক্ষা খাতে অগ্রাধিকার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা নতুন সরকার শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি বিস্তৃত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের উদ্যোগে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতা বাড়ানো হয়েছে।
বরাদ্দ অনুমোদন ও প্রস্তাবিত ব্যয়
সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারকে একটি ডিও লেটার পাঠান, যাতে উৎসব ভাতা বৃদ্ধি ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। অর্থ মন্ত্রণালয় এই প্রস্তাব অনুমোদন করেছে, যদিও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কিছুটা কম।
এই বরাদ্দের মাধ্যমে উৎসব ভাতা বৃদ্ধি এবং নতুন প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা সম্ভব হবে। এছাড়াও, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের জন্যও আলাদা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।
উৎসব ভাতা বৃদ্ধির অর্থনৈতিক প্রভাব
এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ থেকে ৬০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে, যা ১০ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। এই বৃদ্ধি বাস্তবায়নে স্কুলের ভাতায় ৫৪৭,৬১৪ হাজার টাকা এবং কলেজের ভাতায় ২২,৯২৪ হাজার টাকা অতিরিক্ত প্রয়োজন হবে, মোট ৭৭৬,৬৩৮ হাজার টাকা।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে স্কুলের বেতন খাতেও অতিরিক্ত ৫৯৬,৬৮০ হাজার টাকার প্রয়োজন হবে। শিক্ষামন্ত্রীর ডিও লেটারে উল্লেখ করা হয়েছে, অর্থ বিভাগের মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামোর আওতায় আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জন্য প্রস্তাবিত প্রাথমিক ব্যয়সীমা মোট ৫০ হাজার ৩১৯ কোটি টাকা ধরা হয়েছে।
সরকারের শিক্ষা খাতের প্রতিশ্রুতি
জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষে সরকারের ঘোষিত ইশতেহারে শিক্ষা খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি, শিক্ষাখাতে পর্যায়ক্রমে জিডিপির পাঁচ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ, সৃজনশীলতা ও বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা সৃষ্টি, এবং শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। নতুন সরকারের এই পদক্ষেপ শিক্ষকদের আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি এবং শিক্ষা খাতের সামগ্রিক অগ্রগতির দিকে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



