বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগে বড় পরিবর্তন: নিবন্ধন পরীক্ষা বাতিল, সরাসরি নিয়োগ শুরু
বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগে নিবন্ধন পরীক্ষা বাতিল

বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত

বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা এবং কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগের নিবন্ধন পরীক্ষার বদলে এখন থেকে সরাসরি নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। ২০২৫ সালের সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। প্রতিষ্ঠানটির সচিব এ এম এম রিজওয়ানুল হক প্রথম আলোকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নতুন নিয়মে কী পরিবর্তন এলো?

পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষক নিয়োগের জন্য প্রথমে নিবন্ধন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতো। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা সনদ পেতেন এবং পরবর্তীতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করতে পারতেন। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে এনটিআরসিএ নিয়োগের জন্য সুপারিশ প্রদান করত। কিন্তু নতুন নিয়মে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বদলে গেছে।

এখন থেকে সরাসরি নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং উত্তীর্ণ প্রার্থীদের একই সঙ্গে সনদ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদে নিয়োগের সুপারিশ দেওয়া হবে। এনটিআরসিএ জানিয়েছে, নিয়োগপ্রক্রিয়া দ্রুততর করতে এবং জটিলতা কমানোর জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সচিবের বক্তব্য

এনটিআরসিএ সচিব এ এম এম রিজওয়ানুল হক বলেন, "আগে যাঁরা সনদ পেতেন, তাঁরা সবাই নিয়োগ পেতেন না। এতে করে তাঁরা নিজেদের বঞ্চিত মনে করতেন। নতুন পদ্ধতিতে এ জটিলতা আর থাকবে না। সরাসরি নিয়োগ হওয়ায় এখন থেকে আর গণবিজ্ঞপ্তি পদ্ধতি থাকছে না।"

প্রথমবারের মতো সরাসরি নিয়োগ

প্রথমবারের মতো সরাসরি শিক্ষক নিয়োগের জন্য এনটিআরসিএ শূন্য পদের একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে। মোট ৭৭ হাজার ৭৯৯টি শূন্য পদ রয়েছে, যার বিপরীতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। নিয়োগ পরীক্ষায় ২০০ নম্বরের এমসিকিউ এবং ২০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পাস করার জন্য প্রার্থীদের কমপক্ষে ৪০ শতাংশ নম্বর অর্জন করতে হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে প্রাপ্ত শূন্য পদগুলোর মধ্যে সহকারী শিক্ষকের পদ সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, যা ৪৪ হাজার ৬৯১টি। অন্যান্য পদগুলোর বিস্তারিত নিচে দেওয়া হলো:

  • সহকারী শিক্ষক (ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা): ৯২৮
  • সহকারী শিক্ষক/শরীরচর্চা প্রশিক্ষক: ৪,০১৪
  • সহকারী মৌলভি: ১১,০৬৯
  • কম্পিউটার ব্যবহারিক নির্দেশক: ১২৯
  • ব্যবহারিক নির্দেশক: ১,৬১৬
  • ইবতেদায়ি কারি: ২,৫৬৩
  • ইবতেদায়ি মৌলভি: ৬,১৬৬
  • ইবতেদায়ি শিক্ষক: ৪৪৪
  • প্রশিক্ষক: ৫১
  • প্রভাষক: ৫,৮৫২
  • শারীরিক শিক্ষা প্রশিক্ষক: ১২৫
  • বাণিজ্য প্রশিক্ষক: ২৫১

এনটিআরসিএ-এর ইতিহাস

২০০৫ সাল থেকে এনটিআরসিএ শিক্ষক নিবন্ধন সনদ দেওয়া শুরু করে। ২০১৫ সাল থেকে সনদের পাশাপাশি নিয়োগ সুপারিশ করে আসছে এই কর্তৃপক্ষ। এখন পর্যন্ত ৭টি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১ লাখ ৮৬ হাজার ২৩৮ জন শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত সুপারিশ করেছে এনটিআরসিএ। নতুন নিয়মে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।