বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগে বড় পরিবর্তন: সরাসরি বিজ্ঞপ্তি ও নতুন পরীক্ষা পদ্ধতি
বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগে বড় পরিবর্তন, নতুন পদ্ধতি চালু

বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগে যুগান্তকারী পরিবর্তন

বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একটি বড় ধরনের সংস্কার আনতে যাচ্ছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। নতুন এই ব্যবস্থায় আগের মতো আলাদা নিবন্ধন সনদ পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে না প্রার্থীদের। পরিবর্তে, সরাসরি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে, যেখানে আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। এই পদক্ষেপটি শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়াকে আরও সরলীকরণ ও দ্রুততর করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।

নতুন নিয়োগ পদ্ধতির ধাপসমূহ

নতুন নিয়োগ পদ্ধতিতে প্রার্থীদের প্রথমে বহুনির্বাচনি (এমসিকিউ) পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে তাদের মৌখিক পরীক্ষায় ডাকা হবে। উভয় ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করলেই প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য উপযুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, এই পদ্ধতিতে প্রথমবারের মতো সরাসরি শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে।

ইতোমধ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শূন্যপদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তা যাচাই-বাছাই শেষে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন মিললেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে, যা শিগগিরই আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এনটিআরসিএ সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশের স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে মোট ৭৭ হাজার ৭৯৯টি পদ বর্তমানে খালি রয়েছে। যাচাই শেষে এসব পদ বিজ্ঞপ্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরীক্ষার নম্বর ও যোগ্যতার মানদণ্ড

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এমসিকিউ পরীক্ষা হবে ২০০ নম্বরের এবং মৌখিক পরীক্ষা হবে ২০ নম্বরের। উভয় পরীক্ষায় আলাদাভাবে কমপক্ষে ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে প্রার্থীদের। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের এনটিআরসিএ থেকে নিয়োগের জন্য সনদ দেওয়া হবে। এই পরিবর্তনটি শিক্ষক নিয়োগের মান নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বর্তমান পরিসংখ্যান ও প্রভাব

বর্তমানে দেশে ৩৪ হাজার ১২৯টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৫ লাখ ৯৮ হাজার শিক্ষক এবং ২ লাখ ৬ হাজারের বেশি কর্মচারী কর্মরত আছেন। নতুন এই নিয়োগ পদ্ধতি বেসরকারি শিক্ষা খাতের দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার গতিশীলতা আনতে সহায়ক হবে।