গাজীপুরের বিদ্যালয়ে বিদায় অনুষ্ঠানে হট্টগোল: বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অশালীন আচরণ, মাইক কেড়ে নেওয়া এবং প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির এক সাবেক নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে, যা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার বিবরণ ও সময়কাল
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল রোববার দুপুর ১২টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার বাঁশবাড়ি উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। হট্টগোলের কারণে শিক্ষার্থীরা ভীতিকর পরিস্থিতিতে পড়ে এবং একপর্যায়ে অনুষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করে প্রধান শিক্ষকের কক্ষের তালা খুলে দেওয়া হয়। এরপর সংক্ষিপ্তভাবে প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করা হয়, যা বিদায় অনুষ্ঠানের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করেছে বলে অভিভাবকরা মন্তব্য করেছেন।
প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য
এ সম্পর্কে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক সানোয়ার উদ্দিন বলেন, বিদায় অনুষ্ঠান চলার সময় হঠাৎ উপস্থিত হন উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার আওয়াল ও তাঁর লোকজন। অনুষ্ঠানস্থলে এসেই গালাগাল শুরু করেন তিনি। একপর্যায়ে সেখানে আওয়ালের সঙ্গে যোগ দেন আরও ১০-১৫ জন। তাঁরা হঠাৎ প্রধান শিক্ষকের হাতে থাকা মাইক্রোফোন কেড়ে নেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁরা প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা দেন, যা বিদ্যালয়ের নিয়মিত কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে।
প্রধান শিক্ষক আরও জানান, লিখিতভাবে দাওয়াত না দিয়ে মৌখিক দাওয়াত দেওয়ার কারণে আওয়াল ও তাঁর লোকজন এমন পরিস্থিতি তৈরি করে। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টির মীমাংসা হয়েছে, কিন্তু ঘটনাটি বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সারোয়ার আওয়ালের প্রতিক্রিয়া
তবে সারোয়ার আওয়াল এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তিনি কোনো গালাগাল করেননি এবং অভিভাবকদের অনুরোধে সেখানে গিয়েছিলেন। অভিভাবকেরা প্রবেশপত্রের জন্য অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চেয়েছিলেন। কক্ষে তালা দেওয়ার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে তিনি বলেন, কে তালা দিয়েছে তা তাঁর জানা নেই; তবে অল্প সময়ের মধ্যেই তালা খুলে দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন যে, তাঁর উদ্দেশ্য ছিল বিদ্যালয়ের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনা, কিন্তু ঘটনাটি ভুলভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে।
বিএনপির পদক্ষেপ
ঘটনাটি নজরে এসেছে জানিয়ে গাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক এনামুল হক বলেন, বিষয়টি নিয়ে আজ সোমবার বিকেলে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্মান রক্ষা করা তাদের অগ্রাধিকার। এই ঘটনা নিয়ে তদন্ত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
এই ঘটনা গাজীপুরের শিক্ষা পরিবেশে একটি বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা আশা করছেন যে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেবে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।



