শিক্ষামন্ত্রী ড. এহসানুল হক মিলন বলেছেন, দেশজুড়ে মামলা জটের কারণে বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) চট্টগ্রামে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষা উপলক্ষে শিক্ষা বোর্ড, আঞ্চলিক বোর্ড ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
আইনি জটিলতায় নিয়োগ বাধাগ্রস্ত
শিক্ষামন্ত্রী জানান, আইনি জটিলতার কারণে শত শত প্রতিষ্ঠানে শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে ২০১৭ সালের একটি মামলার কারণে ৩২ হাজার ৫০০ জন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে। তিনি বলেন, “এই মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া কঠিন।”
এসএসসি ফল প্রকাশ ও নকল প্রতিরোধ
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামী ২০ জুলাই প্রকাশ করা হবে। তিনি বলেন, পরীক্ষায় নকলের ধরন পরিবর্তিত হয়েছে এবং বর্তমানে ডিজিটাল মাধ্যমে নকলের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এ কারণে প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। দায়িত্বে অবহেলা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনা
শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিভিন্ন উপজেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরও জানান, যেসব উপজেলায় পরীক্ষায় ভালো ফল হবে, সেসব এলাকার সংসদ সদস্যদের জন্য সম্মানসূচক স্বীকৃতি বা গোল্ড মেডেল প্রদানের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এছাড়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার ৬৭০টি বিশেষায়িত স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।
পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষা ব্যবস্থা
পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের ভেতরে আলাদা কোনো শিক্ষা কাঠামো গড়ে উঠতে দেওয়া হবে না। জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করা হবে। সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, এরশাদ উল্লাহসহ শিক্ষা বোর্ডগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



