প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে বিলম্ব: প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিলেন প্রার্থীরা
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ২০২৫ ব্যাচের চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা দ্রুত যোগদান কার্যক্রম সম্পন্নের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। আজ রোববার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে, দেশের ৬১ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এই স্মারকলিপি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। প্রার্থীরা অভিযোগ করেছেন যে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার কারণে তাঁরা এখনো চাকরিতে যোগ দিতে পারছেন না, যা তাদের মানসিক ও আর্থিক সংকটের মুখোমুখি করছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিলম্ব ও প্রার্থীদের দুর্ভোগ
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল গত ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়েছিল। এরপর প্রার্থীরা মেডিক্যাল পরীক্ষা এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন। তবে, দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো যোগদানের বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। প্রার্থীরা জানান, এই বিলম্বের কারণে তাঁরা মানসিক চাপ ও হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করবেন ভেবে অন্য সরকারি চাকরির সুযোগ ছেড়ে দিয়েছেন, ফলে আর্থিক ও সামাজিক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
পূর্ববর্তী দাবি ও বর্তমান অবস্থা
এর আগে, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখেই চাকরিতে দ্রুত যোগদানের ব্যবস্থা করার দাবিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দিয়েছিলেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। সে সময়ও তাঁরা একই অভিযোগ ও দাবিগুলো উল্লেখ করেছিলেন। স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়েছে, জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করতে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হলেও, এই প্রক্রিয়া এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
নিয়োগ পরীক্ষার বিস্তারিত তথ্য
গত ৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে, পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছিল। গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়, যেখানে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়েছিল। জেলাভিত্তিক উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রকাশ করে।
যোগদান প্রক্রিয়ার নির্দেশনা ও বাস্তবায়ন
যোগদানের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের গত ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলার সিভিল সার্জনের দেওয়া স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততার সনদ-প্রত্যয়ন ও ডোপ টেস্ট রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে দাখিল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া, ১ মার্চের মধ্যে সব ডকুমেন্ট যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে মূল সনদ, স্বাস্থ্যগত সনদ-প্রত্যয়ন এবং ডোপ টেস্ট রিপোর্টসহ সশরীর উপস্থিত হওয়ার জন্য বলা হয়েছিল। এসব নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম শেষ হয়েছে বলে প্রার্থীরা জানান, কিন্তু চূড়ান্ত নিয়োগপত্র না পাওয়ায় তাঁরা এখনো যোগদান করতে পারছেন না।
এই অবস্থায়, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে প্রার্থীদের চাকরিতে যোগদান করানোর জন্য সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। প্রার্থীরা আশা প্রকাশ করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে এই সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে এবং তাঁরা শিগগিরই শিক্ষকতা পেশায় যোগ দিতে পারবেন।



