সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ প্রার্থীর নিয়োগের জট খুলতে শুরু করেছে। দীর্ঘ দুই মাস স্থবির থাকার পর দেশজুড়ে শুরু হয়েছে পুলিশ ভেরিফিকেশনের কাজ। তবে এবার নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দেওয়া হলেও তাঁদের চূড়ান্ত পদায়ন করা হবে পিটিআই (প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণকেন্দ্র) প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর।
নিয়োগপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তন
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী এ প্রসঙ্গে প্রথম আলোকে বলেন, ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়াটি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে জেলাগুলোতে পুলিশ ভেরিফিকেশনের কাজ চলছে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে শিক্ষকদের নিয়োগপত্র প্রদান করা হবে। তবে শিক্ষকদের চূড়ান্ত পদায়ন হবে পিটিআই প্রশিক্ষণ শেষে।’
মাঠপর্যায়ে তদন্তকাজ শুরু
মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, ফরিদপুরসহ দেশের প্রায় সব জেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকেই নির্বাচিত প্রার্থীদের ফাইল পুলিশ সুপারের দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা পাওয়ার পর দেশের প্রায় সব জেলায় এই কার্যক্রম এখন চলমান।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাদত হোসেন সুমা প্রথম আলোকে বলেন, ‘জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে আমরা প্রয়োজনীয় তথ্য পেয়েছি। জেলার পাঁচটি উপজেলায় পুলিশ ভেরিফিকেশনের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। পুলিশ বিভাগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এই তদন্তকাজ পরিচালনা করছে।’
ফরিদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মহিউদ্দীন জানান, তাঁরা দ্রুততম সময়ে সব ফাইল পুলিশ প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছেন। তাঁর মতে, অতীত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী এই তদন্তপ্রক্রিয়া ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হতে পারে।
শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাস
এর আগে ৩ মে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের প্রথম দিনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন প্রার্থীদের নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আটকে থাকা ১৪ হাজারের বেশি প্রার্থীকে অতি শিগগিরই নিয়োগ দেওয়া হবে। কাউকেই বাদ দেওয়া হবে না। তবে নিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু শর্ত থাকবে।’
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘শিক্ষকতা করার জন্য প্রার্থীদের যোগ্যতায় কোনো ঘাটতি আছে কি না, তা দেখা হবে। নিয়োগের পর তাঁদের প্রশিক্ষণের জন্য পিটিআইতে পাঠানো হবে। সেখানে যদি কেউ অকৃতকার্য হন, তবে তিনি শিক্ষক হতে পারবেন না। এ ছাড়া সরকারি বিধি অনুযায়ী দুই বছর সাফল্যের সঙ্গে চাকরি সম্পন্ন করলে তাঁদের চাকরি স্থায়ী করা হবে। সবকিছুই করা হবে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য।’
প্রার্থীদের আন্দোলন
শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর দুই মাস পার হলেও নিয়োগ না হওয়ায় প্রার্থীরা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে ছিলেন। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফলাফল ‘রিভিউ’ হওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লে প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। নিয়োগের দাবিতে গত ১৯ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে সংবাদ সম্মেলন এবং ৬১ জেলার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন সুপারিশপ্রাপ্তরা। প্রার্থীদের এই টানা আন্দোলনের মুখেই মূলত স্থবির হয়ে থাকা নিয়োগপ্রক্রিয়ায় গতি আসে।
নিয়োগের প্রেক্ষাপট
দেশের ৬১ জেলায় গত ৯ জানুয়ারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ১০ লাখ ৮০ হাজারের বেশি আবেদনকারীর মধ্য থেকে কয়েক ধাপের যাচাই শেষে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন। ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চের মধ্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সনদ যাচাই সম্পন্ন হয়েছিল। এখন পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রতিবেদন হাতে পাওয়ামাত্রই জেলাভিত্তিক নিয়োগপত্র ইস্যু করা শুরু হবে। চাকরিপ্রার্থীরা মনে করছেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে মে মাসের মধ্যেই নতুন শিক্ষকেরা তাঁদের কাঙ্ক্ষিত পেশার প্রথম ধাপে প্রবেশ করতে পারবেন।



