প্রধান শিক্ষকসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা, অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিতি ও প্রক্সি শিক্ষক নিয়োগ
প্রধান শিক্ষকসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা, অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার জোহরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ তিনজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকা এবং প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে পাঠদান পরিচালনার অভিযোগে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের বিবরণ

বুধবার (২৪ জুন) সকালে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে এবং কেন তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অন্য কোনো দণ্ড দেওয়া হবে না, তা আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পৃথক তিনটি নোটিশে অভিযুক্ত শিক্ষকদের এই তথ্য জানানো হয়। অভিযুক্ত শিক্ষকরা হলেন—জোহরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুভাষ কুমার দাস, সহকারী শিক্ষক মো. আবু বাক্কর সিদ্দিকী ও মো. নওয়াজ শরীফ।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘটনার সময়রেখা

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ মে সকাল সাড়ে ৯টায় বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষকই কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ বাকি দুজন সহকারী শিক্ষক অনুপস্থিত ছিলেন এবং সহকারী শিক্ষক নওয়াজ শরীফ পরে দেরিতে উপস্থিত হন। শিক্ষকরা অনুপস্থিত থেকে বিদ্যালয়ের দপ্তরি এবং বহিরাগত প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন।

প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এর আগে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার দুই দফায় অভিযুক্ত শিক্ষকদের কৈফিয়ত তলব করলেও জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় গত ১৪ জুন তার সুপারিশের ভিত্তিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ভিত্তি

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম নোটিশে উল্লেখ করেন, শিক্ষকদের এমন কর্মকাণ্ড ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা, ২০১৮’ ধারা মোতাবেক অসদাচরণের শামিল। তিনি আরও বলেন, ‘এই ধরনের অনিয়ম শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং আমরা এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছি।’