দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় সুযোগ-সুবিধা বঞ্চনার অভিযোগ, কুড়িগ্রামে ক্ষোভ
দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় সুযোগ বঞ্চনা, কুড়িগ্রামে ক্ষোভ

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় সুযোগ-সুবিধা বঞ্চনার অভিযোগ

কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলায় এক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় বোর্ডের নির্ধারিত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) শাহ্ বাজার এ এইচ ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে আসা ভাঙামোড় দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মৃধা ফারজানা মিতু কোনো বিশেষ সহায়তা ছাড়াই সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতো পরীক্ষা দিতে বাধ্য হন।

বোর্ডের নিয়ম উপেক্ষিত

বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য শ্রুতিলিখন এবং অতিরিক্ত সময় পাওয়ার কথা থাকলেও মিতু এসবের কিছুই পাননি বলে অভিযোগ তার। মিতু জানান, তিনি একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এবং সরকারি ভাতাও পান। এর আগে একবার দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েও কোনো বাড়তি সুবিধা না পাওয়ায় তিন বিষয়ে অকৃতকার্য হন। এবার সেই বিষয়গুলোতেই পুনরায় পরীক্ষা দিচ্ছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘চোখে কম দেখি, তাই দ্রুত লিখতে পারি না। নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত সময় পেলে আমি ভালোভাবে পরীক্ষা দিতে পারতাম।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, আবেদন করার পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয় সচেতন মহলের ক্ষোভ

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, এটি শুধু মিতুর জন্য নয়, বরং সব প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর অধিকারের প্রশ্ন। জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ও সিনিয়র সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা বাড়তি সুবিধা পাওয়ার দাবিদার। আবেদন করার পরও যদি সে তা না পায়, তাহলে এটি স্পষ্টভাবে তার অধিকার লঙ্ঘন। একটু অতিরিক্ত সময় পেলে সে আরও ভালো করতে পারতো।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রশাসনের বক্তব্য

দাখিল মাদ্রাসার সুপার ইসমাইল হোসেন জানান, পূর্বে মিতুর পরিবার থেকে কোনো আবেদন করা হয়নি। তবে পরীক্ষার দিন কেন্দ্র সচিবের কাছে আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র সচিব মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, আবেদন পাওয়া গেলে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুস সালাম জানান, সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর আবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত সময় বরাদ্দ দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) দিলারা আক্তার জানান, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী মিতু পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন এ তথ্য আগে থেকে জানা ছিল না। মঙ্গলবার পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে কেন্দ্র সচিব বিষয়টি অবগত করলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

তিনি আরও বলেন, পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে যেন বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী মিতু প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত সময়সহ সব ধরনের সুবিধা পায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার আশ্বাস দেন।