ফরিদপুরে মাদ্রাসার জমি দখলচেষ্টা: ভাংচুর, লুটপাট ও সহকারী প্রিন্সিপালের জ্ঞান হারানো
ফরিদপুরে মাদ্রাসার জমি দখলচেষ্টা, ভাংচুর ও লুটপাট

ফরিদপুরে মাদ্রাসার জমি দখলচেষ্টায় ভাংচুর ও লুটপাট: সহকারী প্রিন্সিপাল জ্ঞান হারালেন

ফরিদপুর শহরের রঘুনন্দনপুর হাউজিং এস্টেট সংলগ্ন আশরাফুল উলুম মাদ্রাসার জমি দখলের উদ্দেশ্যে এক প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে ভাংচুর, মালামাল লুটপাট ও ক্ষতিসাধনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ রোববার (১৯ এপ্রিল) কোতোয়ালি থানায় এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে, যা স্থানীয় সম্প্রদায়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা ফরিদ আহমাদ জানান, কোতোয়ালি থানাধীন ১০৩নং গোয়ালচামট মৌজার ১২২০ নাম্বার দাগের ১৪ শতাংশ সম্পত্তি আশরাফুল উলুম মাদ্রাসার ক্রয়কৃত ও দানের সম্পত্তি হিসেবে নিবন্ধিত। এই জমিতে পাকা ঘর ও সীমানা প্রাচীর বিদ্যমান ছিল। গত ১৮ এপ্রিল দিনগত রাতে ১০ থেকে ১২ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ অনধিকার প্রবেশ করে জমি দখলের চেষ্টা চালায়।

হামলাকারীরা মাদ্রাসার ঘরের দেয়াল ভেঙে ফেলে, সিসি ক্যামেরা, ইটের খোয়া, টিনের বেড়া ও সাইনবোর্ড খুলে নিয়ে যায়, যার ফলে আনুমানিক দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘটনাস্থলে ছাত্র-শিক্ষকরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং সহিংসতা তীব্রতর হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সহকারী প্রিন্সিপালের গুরুতর আহত হওয়া

মাদ্রাসার সহকারী প্রিন্সিপাল মো. বশির আহমাদ (৪০) হামলাকারীদের বাধা দিতে গেলে তারা তাকে ধাওয়া করে। পালাতে গিয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে, যেখানে তিনি বর্তমানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের তদন্ত ও কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলাকারীরা আবারও আক্রমণ করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে, যা নিরাপত্তা সংকট তৈরি করেছে। ১৯ এপ্রিল থানায় অভিযোগ দাখিলের পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। কোতোয়ালি থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, "অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

এই ঘটনা ফরিদপুরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও সম্পত্তি রক্ষার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ও শাস্তির দাবি জানাচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।