ঈদের ছুটিতে ফাঁকা রাজধানীতে সাইকেল শেখাচ্ছেন বাবা, কিন্তু কেন আমরা সাইকেল চালানো ভুলি না?
ঈদে ফাঁকা রাজধানীতে সাইকেল শেখানো, কেন ভুলি না সাইকেল চালানো?

ঈদের ছুটিতে ফাঁকা রাজধানীতে সাইকেল শেখাচ্ছেন বাবা

ঈদের ছুটিতে রাজধানী ঢাকা প্রায় ফাঁকা হয়ে গেছে। এই সুযোগটি কাজে লাগিয়েছেন বাবা এস এম রোশন কবির। তিনি তার মেয়ে রুবাইয়াকে সংসদ ভবন এলাকায় সাইকেল চালানো শেখাচ্ছেন। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে এই দৃশ্য ধরা পড়েছে গত ১৯ মার্চ।

কেন আমরা সাইকেল চালানো ভুলতে পারি না?

আমাদের মধ্যে অনেকে হয়তো গতকাল কী খেয়েছি বা কার সঙ্গে কথা বলেছি, তা ঠিকমতো মনে রাখতে পারি না। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, বহু বছর পর হঠাৎ একটি সাইকেলের সিটে বসলেও আমরা অনায়াসেই ভারসাম্য রক্ষা করে প্যাডেল চালাতে পারি। ছোটবেলায় শেখা সাইকেল চালানোর কৌশল আমরা চাইলেও কেন ভুলতে পারি না?

যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটির স্নায়ুবিজ্ঞানের অধ্যাপক ডাক্তার অ্যান্ড্রু বাডসন বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করছেন। তিনি জানান, মানুষের দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতি মূলত তিন ধরনের হয় এবং প্রতিটি স্মৃতি মস্তিষ্কের আলাদা আলাদা পথে কাজ করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • তথ্যভিত্তিক স্মৃতি: এটি সাধারণ সব তথ্য মনে রাখতে সাহায্য করে, যেমন কীভাবে পিসি চালু করতে হয় বা বিড়াল ও কুকুরের মধ্যে পার্থক্য কী।
  • ঘটনাভিত্তিক স্মৃতি: এটি আমাদের জীবনের বিশেষ অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত, যেমন স্কুলের প্রথম দিনটির স্মৃতি।
  • পেশি স্মৃতি বা মাসল মেমোরি: এটি এমন সব কাজ মনে রাখতে সাহায্য করে যা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে, যেমন হারমোনিয়াম বাজানো, সাঁতার কাটা বা সাইকেল চালানো।

মস্তিষ্কের গোপন রহস্য

সাইকেল চালানোর মতো শারীরিক কাজগুলো মস্তিষ্কের বেসাল গ্যাংলিয়া এবং সেরেবেলাম নামক অংশে জমা থাকে। আমাদের সাধারণ সব স্মৃতি যেখানে জমা হয়, এই অংশটি তার চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। পেশি স্মৃতির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এটি সময়ের সঙ্গে নষ্ট হয় না বা মুছে যায় না। এ কারণেই একবার সাইকেল চালানো বা টাইপ করা শিখে গেলে তা মস্তিষ্কে স্থায়ীভাবে গেঁথে যায়। এমনকি যদি নতুন কোনো মডেলের সাইকেলও চালানো হলেও মস্তিষ্ক খুব দ্রুত নিজেকে তার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে। সহজ কথায়, সাইকেল চালানোর মৌলিক নিয়মগুলো আমাদের মস্তিষ্ক কখনোই ভুলতে দেয় না।

বিজ্ঞানীদের গবেষণার চ্যালেঞ্জ

সাইকেল চালানো নিয়ে বিজ্ঞানীদের সরাসরি গবেষণার সংখ্যা বেশ কম। এর পেছনে বেশ কিছু বড় কারণ রয়েছে। প্রথমত, কেউ যখন দ্রুত গতিতে সাইকেল চালায়, তখন তার মাথার ভেতর মস্তিষ্কের কাজগুলো স্ক্যান করা বা ছবি তোলা প্রায় অসম্ভব। দ্বিতীয়ত, একেক জন মানুষ সাইকেল চালানোয় একেক রকম দক্ষ হওয়ায় গবেষণার সঠিক ফলাফল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। আবার গবেষণায় সব কিছু নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি হলেও সাইকেল চালানোর সময় বাইরের পরিবেশ বা বাতাসের মতো অনেক কিছু পরীক্ষার ফলে প্রভাব ফেলতে পারে।

এসব কারণেই বিজ্ঞানীরা সরাসরি সাইকেল চালানোর বদলে ল্যাবরেটরিতে অন্য কিছু কাজ দিয়ে মানুষের স্মৃতি পরীক্ষা করেন। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের বলা হয় আয়নায় নিজের হাত দেখে কোনো ছবি আঁকতে। শুরুতে এই কাজটি বেশ কঠিন মনে হলেও বারবার অনুশীলনের ফলে মস্তিষ্ক দ্রুত তা শিখে ফেলে এবং একসময় এটি অভ্যাসে পরিণত হয়।

অনুশীলনের গুরুত্ব

কোনো কিছু একবার করলেই তা স্মৃতিতে স্থায়ী হয় না। সাইকেল চালানোর দক্ষতা মস্তিষ্কের স্নায়ু পথে স্থায়ী করতে হলে বারবার অনুশীলন প্রয়োজন। প্রথমবার শেখার চেয়ে দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার কোনো কিছু শেখা অনেক দ্রুত হয়। কারণ, বারবার করলে মস্তিষ্কের সেই কাজের পথগুলো আরও শক্তিশালী হয়। বহু বছর সাইকেল না চালালেও এই স্মৃতি পুরোপুরি মুছে যায় না। তবে তা সচল রাখতে মাঝেমধ্যে অনুশীলন করা ভালো।

সূত্র: পপুলার সায়েন্স।