শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে কাজ করতে হবে জানিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেছেন, শিক্ষা ও গবেষণায় দেশের শীর্ষস্থান অর্জন করে বিশ্ববিদ্যালয়কে গৌরবান্বিত করেছে রসায়ন বিভাগ। রসায়ন বিভাগের এই সাফল্য ও ধারাবাহিকতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বুধবার (৬ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের উদ্যোগে এবং ইউজিসির হায়ার এডুকেশন অ্যাক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশনের (এইচইএটি) সাব-প্রজেক্টের আওতায় আয়োজিত ‘ল্যাবরেটরি সেফটি অ্যান্ড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপাচার্যের বক্তব্য
উপাচার্য তার বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে রসায়ন বিভাগের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি জানান, যেসব বিভাগ গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে, তাদের উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে। একইসঙ্গে সীমাবদ্ধতার মাঝেও বিদ্যমান সক্ষমতার সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
বিভাগের চেয়ারম্যানের আশা
বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল হক তার স্বাগত বক্তব্যে আশা প্রকাশ করে বলেন, অদূর ভবিষ্যতে এই বিভাগ দেশের মধ্যে সেরা অবস্থানে পৌঁছাবে। বর্তমানে বিভাগে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্ট চলমান রয়েছে, যা সফলভাবে সম্পন্ন হলে গবেষণার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ সময় তিনি বিভাগের বিদ্যমান বেঞ্চ সংকট নিরসনে প্রশাসনের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান।
সেমিনারের আলোচনা
বিভাগীয় কক্ষে আয়োজিত এই সেমিনারে ল্যাবরেটরিতে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং রাসায়নিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিক পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সেমিনারে এইচইএটির সাব-প্রজেক্ট ম্যানেজার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দ আলমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন এবং বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. পরিমল বালা।
কারিগরি সেশনে কী-নোট স্পিকার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ফর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের জেনারেল ম্যানেজার মো. মোস্তাক উদ্দিন ঠাকুর এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইয়াসির আরাফাত খান। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সহযোগী সাব-প্রজেক্ট ম্যানেজার অধ্যাপক ড. এ কে এম লুৎফর রহমান এবং অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ লোকমান হোসেন।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী ও জবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কে এম মাহমুদসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা ল্যাবরেটরিতে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।



