জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর নিচে দেওয়া হলো।
মানুষ কোন বর্গের অন্তর্ভুক্ত?
মানুষ Primate বর্গের অন্তর্ভুক্ত। মানুষের আঁকড়ে ধরার উপযোগী হাত রয়েছে। এ ছাড়া ঘ্রাণ অপেক্ষা দৃষ্টিশক্তি বেশি উন্নত। এ ধরনের বৈশিষ্ট্যের কারণে মানুষ Primate বর্গের অন্তর্ভুক্ত।
ব্যাকটেরিয়া কোন রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত?
ব্যাকটেরিয়া মনেরা (Monera) রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। ব্যাকটেরিয়া এককোষী, ফিলামেন্টাস, কলোনিয়াল। কোষে ক্রোমাটিন বস্তু থাকে কিন্তু নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয়ার পর্দা নেই। কোষে প্লাস্টিড, মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা ইত্যাদি নেই, কিন্তু রাইবোজোম আছে। দ্বিবিভাজন প্রক্রিয়ায় কোষ বিভাজন সম্পন্ন হয়। শোষণ পদ্ধতিতে খাদ্য গ্রহণ করে। এ বৈশিষ্ট্যের কারণেই ব্যাকটেরিয়া মনেরা রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত।
স্পিন্ডল যন্ত্র কী?
মাইটোসিসের প্রো-মেটাফেজ পর্যায়ে এক মেরু থেকে অপর মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত প্রোটিন নির্মিত কতগুলো তন্তু পরিলক্ষিত হয়। এগুলোকে স্পিন্ডল তন্তু বলে। আর এই তন্তুগুলো মিলিত হয়ে যে মাকু আকৃতির গঠন তৈরি করে, তাকে স্পিন্ডল যন্ত্র বলে।
মাইটোসিসের কোন পর্যায়ে স্পিন্ডল যন্ত্র বিলুপ্ত হয়?
মাইটোসিসের টেলোফেজ পর্যায়ে স্পিন্ডল যন্ত্র বিলুপ্ত হয়। এটি মাইটোসিসের শেষ পর্যায়। এখানে প্রোফেজের ঘটনাগুলো পর্যায়ক্রমে বিপরীতভাবে ঘটে। ক্রোমোজোমগুলোয় পানি যোজন ঘটে এবং সরু ও লম্বা আকার ধারণ করে। অবশেষে এরা জড়িয়ে গিয়ে নিউক্লিয়ার রেটিকুলাম গঠন করে। নিউক্লিওলাসের পুনরাবির্ভাব ঘটে। নিউক্লিয়ার রেটিকুলামকে ঘিরে পুনরায় নিউক্লিয়ার মেমব্রেন তৈরি হয়, ফলে দুই মেরুতে দুটি অপত্য নিউক্লিয়াস তৈরি হয়। স্পিন্ডল যন্ত্রের কাঠামো ভেঙে পড়ে ও তন্তুগুলো ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে যায়।
কোন ধরনের বিভাজন জীবদেহের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে?
মাইটোসিস বিভাজন জীবদেহের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। মাইটোসিসের ফলে বহুকোষী জীবের দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে। সব বহুকোষী জীবই জাইগোট নামক একটি কোষ থেকে জীবন শুরু করে। এই একটি কোষই বারবার মাইটোসিস বিভাজনের ফলে অসংখ্য কোষ সৃষ্টির মাধ্যমে পূর্ণ জীবে পরিণত হয়। এভাবে মাইটোসিস বিভাজন জীবের বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেহকোষ ডিপ্লয়েড প্রকৃতির ব্যাখ্যা
জনন মাতৃকোষে মিয়োসিস বিভাজনের ফলে হ্যাপ্লয়েড শুক্রাণু ও হ্যাপ্লয়েড ডিম্বাণু তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে নিষেক ক্রিয়া সম্পন্ন হলে হ্যাপ্লয়েড শুক্রাণুর সঙ্গে হ্যাপ্লয়েড ডিম্বাণু মিলিত হয়ে ডিপ্লয়েড জাইগোট সৃষ্টি করে। এই ডিপ্লয়েড জাইগোটে পুনঃপুনঃ মাইটোসিস বিভাজনের ফলে তা একটি শিশুজীবে পরিণত হয়। এই শিশুজীবে দেহকোষগুলো ডিপ্লয়েড প্রকৃতির হয়।
জীবের টিকে থাকার ক্ষেত্রে মিয়োসিসের ভূমিকা
যৌনজননক্ষম জীবে মিয়োসিসের মাধ্যমে জিনগত বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়। কোনো প্রজাতির টিকে থাকা নির্ভর করে তার সদস্যদের মধ্যে কতটা বৈচিত্র্য আছে তার ওপর। পরিবেশ প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। সেসব প্রজাতি টিকে থাকে, যাদের অন্তত কিছু সদস্যের মধ্যে পরিবর্তিত পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার মতো বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যদি কোনো প্রজাতির মধ্যে বৈচিত্র্য কম থাকে, তাহলে নতুন পরিবেশে খাপ খাওয়ানোর সম্ভাবনা কম, ফলে পুরো প্রজাতি বিলুপ্ত হতে পারে। আর বৈচিত্র্য বেশি থাকলে বিপদেও অন্তত কিছু সদস্য বেঁচে যেতে পারে। তাই মিয়োসিস জিনগত বৈচিত্র্য সৃষ্টি করে প্রজাতির টিকে থাকার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
মুথা ঘাসকে C4 উদ্ভিদ বলা হয় কেন?
হ্যাচ ও স্ন্যাক চক্রে প্রথম উৎপন্ন বা প্রথম স্থায়ী পদার্থ অক্সালো অ্যাসিটিক অ্যাসিড। এটি চার কার্বনবিশিষ্ট বলে এই চক্রকে C4 চক্র বলে। যেসব উদ্ভিদে C4 চক্র সংঘটিত হয়, তাকে C4 উদ্ভিদ বলে। মুথা ঘাসে C4 চক্র সংঘটিত হয়, তাই একে C4 উদ্ভিদ বলা হয়।
ক্লোরোফিল কীভাবে সালোকসংশ্লেষণের হারকে প্রভাবিত করে?
পাতায় ক্লোরোফিলের পরিমাণের সঙ্গে সালোকসংশ্লেষণের হারের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। কারণ, একমাত্র ক্লোরোফিলই আলোকশক্তি গ্রহণ করতে পারে। পুরাতন ক্লোরোপ্লাস্ট নষ্ট হয়ে যায় এবং তখন নতুন ক্লোরোপ্লাস্ট সংশ্লেষিত হয়। নতুন ক্লোরোপ্লাস্ট ও ক্লোরোপ্লাস্টের উপাদান সৃষ্টির হারের ওপর সালোকসংশ্লেষণের হার নির্ভরশীল। সালোকসংশ্লেষণের ক্ষমতা রক্ষার জন্য ক্লোরোপ্লাস্টের বিভিন্ন উপাদান দ্রুত ও প্রচুর পরিমাণে পুনর্গঠিত হওয়া প্রয়োজন। তবে কোষে বেশি ক্লোরোফিল থাকলে এনজাইমের অভাব দেখা যায় ও সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়।
কোন ধরনের কোষে শ্বসনের হার বেশি?
অল্পবয়স্ক কোষে, বিশেষ করে ভাজক কোষে প্রোটোপ্লাজম বেশি থাকে বলে সেখানে বয়স্ক কোষের তুলনায় শ্বসনের হার বেশি।
অবাত শ্বসনে উৎপন্ন শক্তির পরিমাণ কম হয় কেন?
অবাত শ্বসনে গ্লুকোজের অসম্পূর্ণ জারণ ঘটে। ফলে এ প্রক্রিয়ায় এক অণু গ্লুকোজ থেকে মাত্র দুই অণু ATP পাওয়া যায়। এ কারণেই অবাত শ্বসনে উৎপন্ন শক্তির পরিমাণ কম হয়।
মোহাম্মদ আক্তার উজ জামান, প্রভাষক, সরকারি রূপনগর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা



