বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ, যানজটে যাত্রীদের দুর্ভোগ
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্ঘটনা প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ, যানজট

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীর প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। রোববার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে এই ঘটনা ঘটে, যার ফলে সড়কের দুই পাশে অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়ে এবং যাত্রীরা মারাত্মক দুর্ভোগে পড়েন।

দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তামিম হোসেন শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মোটরসাইকেলে করে বরিশাল নগরের দিকে আসছিলেন। কীর্তনখোলা নদীর দপদপিয়া সেতু পার হওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি তেলবাহী ট্যাংকারের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তামিম হোসেন গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় ব্যক্তিরা তাঁকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান।

এ ঘটনায় মালিকপক্ষকে খবর দেওয়া হলেও তাঁরা না আসায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা রোববার বেলা দুইটার দিকে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি জানিয়েছেন:

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দ্রুত পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন
  • দুর্ঘটনায় জড়িত ঘাতক চালককে গ্রেপ্তার
  • মহাসড়কে স্থায়ী ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন
  • আহত শিক্ষার্থীর যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান

শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া ও অতীত ঘটনা

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তৌসিফ আলম খান বলেন, ‘গতকাল দুপুরে আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থী তামিম হোসেনকে একটি তেলবাহী গাড়ি চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। সে এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আমরা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি। মালিকপক্ষ আজ রোববার সকাল ১০টার মধ্যে আসার কথা বললেও তারা আসেনি। তাই বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছি।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আরেক শিক্ষার্থী আকিবুল ইসলাম বলেন, ‘সড়কে আর কত রক্ত দিলে পরিস্থিতি বদলাবে? আমরা বারবার প্রশাসনকে জানিয়েছি, কিন্তু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’

এর আগে ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী মাইশা ফৌজিয়া মিম বাস চাপায় নিহত হন। ওই সময় শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন এবং সড়কে নিরাপত্তার জন্য নানা দাবি জানিয়েছিলেন। এসব দাবি পূরণে আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনও অনেক দাবি বাস্তবায়িত হয়নি, ফলে প্রায়ই বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের এই মহাসড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে।

যানজটে যাত্রীদের দুর্ভোগ

মহাসড়ক অবরোধের ফলে দুই পাশে অসংখ্য যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন আটকা পড়েছে। প্রখর রোদ ও অসহনীয় তাপপ্রবাহে আটকে পড়া যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বরিশাল থেকে বরগুনা যাওয়ার পথে আটকে পড়া যাত্রী রহিমা বেগম বলেন, ‘ডাক্তার দেখানোর জন্য বরিশালে এসেছিলাম। ফেরার পথে এই ঝামেলার মধ্যে পড়লাম। ঘণ্টাখানেক ধরে দাঁড়িয়ে আছি। এই গরমে আর দাঁড়াতে পারছি না। দ্রুত রাস্তা ছাড়লে বাড়ি যেতে পারতাম।’

প্রশাসনের পদক্ষেপ

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রাহাত হোসেন ফয়সাল বিকেল চারটার দিকে বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছি। আশা করি সমাধানে দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছে অবরোধ প্রত্যাহার করাতে পারব।’ তবে এখনও অবরোধ অব্যাহত রয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।