চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে 'নারায়ে তাকবির' স্লোগান নিয়ে বিতর্ক, দুই শিক্ষার্থী মারধরের শিকার
চবিতে স্লোগান নিয়ে বিতর্কে দুই শিক্ষার্থী মারধরের শিকার

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে 'নারায়ে তাকবির' স্লোগান নিয়ে উত্তেজনা, দুই শিক্ষার্থী মারধরের শিকার

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষার্থীদের 'নারায়ে তাকবির' স্লোগান দেওয়া নিয়ে বিতণ্ডার একপর্যায়ে স্থানীয়রা দুই শিক্ষার্থীকে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। শুক্রবার রাত ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেল গেইট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

ঘটনার বিবরণ

আহতরা হলেন, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবির সরকার ও আশিকুর ইসলাম। আবির শহীদ ফরহাদ হোসেন হল সংসদের গবেষণা ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এবং সময় টিভির বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত আছেন।

ভুক্তভোগী আশিকুর ইসলাম বলেন, 'আমরা সাতজন একটি হোটেলে খেতে গিয়েছিলাম। খাবার শেষে ক্যাম্পাসে ফেরার জন্য ক্যাম্পাসগামী ৩ নম্বর বাস আসতে দেখে বাসটাকে আমরা থামাই। বাসটা আমাদের থেকে কিছুটা দূরত্ব হওয়ায় আমরা দ্রুত আসার জন্য বাসের দিকে দৌড় দেই। তখন হই-হুল্লোরের করতে করতে কোনো ভাই মজা করে 'নারায়ে তাকবির', আরেক ভাই 'আল্লাহু আকবার' বলে। এ সময় পাশ থেকে স্থানীয় একজন বলে উঠলেন, আপনারা স্লোগান দিলেন কেন? তখন আমাদের এইজন বলে ওঠে, স্লোগান দিয়েছে, এটাতে তো আপনাদের কোনো সমস্যা নাই। এটা বলে আমরা বাসে উঠে যাই।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আশিকুরের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে স্থানীয় একজন বাসটি থামিয়ে তাদের সাথে ঔদ্ধ্যত আচরণ করে। তখন আবির বাস থেকে নামতে নামতে ভিডিও করার জন্য ফোন বের করে। এ সময় তারা (স্থানীয়রা) তার ফোনটি কেড়ে নেয়। পরে ফোনটি নেওয়ার জন্য হাত বাড়ালে উনি (স্থানীয়) আমার বুকে ঘুষি দেয়। এক পর্যায়ে তারা পাশের দোকান থেকে কাঠ নিয়ে এসে এলোপাতারি মারধর শুরু করে। পরে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতিক্রিয়া ও ব্যবস্থা

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, 'আমি এ ঘটনা শোনার সাথে সাথেই প্রশাসনকে জানিয়েছি আসামিকে দুই ঘন্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের জন্য বলেছি।'

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক মোহাম্মদ আবুল কাশেম বলেন, 'জাহিন আবিরের বাম হাতের উপরের দিকে আঘাত পেয়েছে, যার কারণে তার এক্স-রে করার প্রয়োজন দেখা দেয়। আমরা তাকে চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজে পাঠিয়ে দেই। আশিকুর রহমান ঘাড় ও হাতে আঘাত পাওয়া গেছে।'

মামলা ও গ্রেপ্তার

ঘটনার পর রাত সাড়ে ৩টায় জাহিন আবির সরকার বাদী হয়ে স্থানীয় ইমন (২৫) ও শফিককে (২৭) আসামি করা হাটহাজারী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে রাত ৪ টায় হাটহাজারীর এগারোমাইল এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাটহাজারী মডেল থানার ওসি জাহিদুর রহমান।

ওসি জাহিদুর রহমান বলেন, 'ঘটনার পরপরই পুলিশ ও র‍্যাব যৌথভাবে অভিযান চালায়। এ ঘটনায় প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অপর আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।'