চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে দোকান ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ
চবিতে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে দোকান ভাঙচুর অভিযোগ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দোকান ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনা: ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বকেয়া টাকা নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে দোকানিকে মারধর ও দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ঝুপড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

অভিযুক্ত নেতা ও দোকানির পরিচয়

অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতার নাম জালাল সিদ্দিকী। তিনি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি শাখা ছাত্রদলের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। অন্যদিকে, দোকানির নাম হামিদ মোহাম্মদ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের ২০১৫–১৬ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ছিলেন। বর্তমানে তিনি এই দোকানের আয় দিয়েই জীবিকা নির্বাহ করেন।

ঘটনার বিবরণ

প্রত্যক্ষদর্শী ও দোকানির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দোকানে ৩০ টাকা বাকি রাখা নিয়ে জালাল সিদ্দিকীর সঙ্গে দোকানি হামিদ মোহাম্মদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এর জেরে দোকানিকে মারধরের ঘটনা ঘটে এবং দোকানের পণ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দোকানি হামিদ মোহাম্মদ বলেন, ‘জালাল সিদ্দিকী কথা বলার এক পর্যায়ে আমার গায়ে হাত তোলেন। ঘটনার পর তিনি আমার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন, তবে এখনো কোনো ক্ষতিপূরণ দেননি। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে বিষয়টি জানিয়েছি। তিনি যে সিদ্ধান্ত দেবেন, আমি সেটিই মেনে নেব।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিযুক্ত নেতার প্রতিক্রিয়া

জানতে চাইলে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জালাল সিদ্দিকী বলেন, ‘দোকানি সবার কাছে বলে বেড়াচ্ছেন, আমি টাকা বাকি রেখেছি। তাঁর কথা শোনার পর আমি নিজের মেজাজ হারিয়ে ফেলি। কিন্তু তাঁকে আমি মারধরও করিনি, দোকান ভাঙচুরও করিনি; বরং আমি ঘটনার জন্য তাঁর কাছে গিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছি।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ছাত্রদলের অন্যান্য নেতাদের বক্তব্য

ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন, ‘ওই দোকানি অভিযোগ করে বলেছিলেন, ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা খাবার খেয়ে টাকা দেন না। এ সময় দোকানি জালাল নামের একজনের কাছে ৩০ টাকা পাওনার কথা জানান। আমরা বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিই। এরপর আমরা চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর দোকানে ভাঙচুরের খবর পাই।’

শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. আলাউদ্দিন মহসিন বলেন, ‘আমি ঘটনাটি শুনেছি। আমরা ঘটনার সত্যতা যাচাই করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব। আমাদের সংগঠন বিগত সময়ে ক্যাম্পাসে এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ড (দোকানে বাকি রাখা) করেনি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মকাণ্ড যেন না ঘটে, সে বিষয়ে আমরা খেয়াল রাখব।’

পরিস্থিতির মূল্যায়ন

এই ঘটনা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শান্তি-শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বকেয়া টাকা নিয়ে বিরোধের মাধ্যমে দোকান ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করা হচ্ছে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।